আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য

ছেলে হত্যার বিচার দেখতে চাই : বাবা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৬:২৮ এএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষ্য দেন আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন (৮৫)। তিনি এ মামলার প্রথম সাক্ষী। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘জীবিত থাকতে ছেলের চাকরি দেখতে চেয়েছিলাম। এখন জীবিত থাকতেই ছেলে হত্যার কঠোর বিচার দেখতে চাই।’ এর আগে গত বুধবার প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবু সাঈদ হত্যার বিচার শুরু হয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম  রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের (বেরোবি) সামনে পার্ক মোড়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে গুলি করে পুলিশ। শহীদ আবু সাঈদ বিশ^বিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। আবু সাঈদ হত্যার তদন্ত শেষে ৩০ জনকে আসামি করে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গত ৩০ জুন আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন বিশ^বিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) মো. হাসিবুর রশীদসহ পলাতকদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এ মামলায় ৬ আসামি কারাগারে আছেন। গতকাল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করে আদালত।

জবানবন্দিতে আবু সাঈদের বাব মকবুল হোসেন বলেন, ‘আবু সাঈদ মেধাবী ছাত্র ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল। টিউশনি করে নিজের খরচ চালাত। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১৬ জুলাই আমি মাঠ থেকে কাজ শেষে দুপুরে বাড়ি এসে শুনি সবাই কান্নাকাটি করছে। আবু সাঈদের গুলি লেগেছে। পরে শুনলাম মারা গেছে। এই খবর শুনে আমার মাথায় আসমান ভেঙে পড়ে। আমার অন্য দুই ছেলে ও মেয়ের জামাইকে পাঠাই তারা বিশ^বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখে সেখানে লাশ নেই। লাশ পোস্ট মর্টেমের জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশ প্রথমে আবু সাঈদের লাশ দেখতে দেয়নি। পরে মেয়ের জামাই ও ছেলেদের চাপে লাশ দেখতে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ৩টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। প্রশাসনের লোকজন রাতেই লাশ দাফন করতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু আমরা তাতে রাজি না হয়ে সকাল ৯ টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে আবু সাঈদকে দাফন করা হয়।’

মকবুল হোসেন বলেন, ‘আবু সাঈদের লাশ বাড়িতে আনার পর গোসলের সময় দেখতে পাই তার মাথার পেছনে রক্ত ঝরছিল। আর সারা বুকে গুলির চিহ্ন। বুক দিয়ে রক্ত ঝরছে। পরে শুনেছি আমির হোসেন (পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক) ও সুজন চন্দ্র রায় (সাবেক কনস্টেবল) আমার ছেলেকে গুলি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর কয়েক দিন আগে ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়া (এই মামলার আসামি) আবু সাঈদের গলা টিপে ধরে তাকে থাপ্পড় মেরেছিল।’

জবানবন্দিতে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে মেরেছে, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যরা যারা জড়িত তাদের কঠোর বিচার চাই। আমার আশা ছিল আমার ছেলে চাকরি করবে। যেহেতু আমার ছেলে নেই, আমি জীবিত থাকতে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’ জবানবন্দি শেষ হলে এ মামলার আসামি বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু সাক্ষীকে জেরা করেন। এদিন এ মামলায় আরও সাক্ষ্য দেন বেসরকারি এনটিভির রংপুরের সিনিয়র করেসপনডেন্ট একেএম মঈনুল হক। ঘটনার সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার মুহূর্তটি ওই টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত