ফাঁস হওয়া ফোনালাপ কেলেঙ্কারিতে পদচ্যুত হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা, আদালতের রায়ে ভেঙে গেল তার মন্ত্রিসভা। ২০০৮ সালের পর এ নিয়ে পঞ্চমবার কোনো প্রধানমন্ত্রীকে দেশটির সাংবিধানিক আদালত বরখাস্ত করল।
মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ক্ষমতায় আসা পেতোংতার্ন ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে, তার ফুফু ইংলাক সিনাওয়াত্রার পর তিনি দেশের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী, যিনি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে গত জুলাই মাসে একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের জেরে পেতোংতার্নকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফোনালাপে পেতোংতার্ন হুন সেনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করেন এবং থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেনা কমান্ডারকে নিজের ‘প্রতিপক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে গত দুই দশক ধরে একটি নাম সবচেয়ে আলোচিত— সিনাওয়াত্রা পরিবার। থাই আদালতের এ রায়ের পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে— কে এই পেতোংতার্ন ও শিনাওয়াত্রা পরিবার?
ধনকুবের ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতোংতার্ন থাইল্যান্ডের ও যুক্তরাজ্যের সারের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে পারিবারিক ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন।
‘উং ইং’ নামে পরিচিত পেতোংতার্ন ২০২১ সালে পেউ থাই পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। পরে থাই পার্লামেন্ট তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে, যখন তার পূর্বসূরি স্রেত্থা থাভিসিনকে মন্ত্রিসভা নিয়োগে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালত বরখাস্ত করে।
পেতোংতার্নকে জানতে হলে যেতে আরও কয়েক বছর পেছনে ২০০১ সালে। সে বছর থাইল্যান্ডের টেলিকম খাতের ধনকুবের ও পেতোংতার্নের বাবা থাকসিন সিনাওয়াত্রা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ছিলেন প্রথম থাই নেতা যিনি একটি নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ মেয়াদে নেতৃত্ব দেন।
গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ভোটার ও শহরের ব্যবসায়ীদের সমর্থন আদায় করে থাকসিন দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু ২০০৬ সালে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০০৮ সালে তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে চলে যান।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে থাকসিনের ছোট বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে ২০১৪ সালে একটি বদলি নিয়ে বেআইনি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে সাংবিধানিক আদালত বরখাস্ত করে।
সিনাওয়াত্রা পরিবারের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। সেনাবাহিনী অতীতে তাদের দুটি সরকারকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক জটিল ছিল।
তবে ২০২৩ সালে এক বিস্ময়কর কৌশলে, পেতোংতার্নের নেতৃত্বে সিনাওয়াত্রারা সেনাবাহিনী ঘনিষ্ঠ দলগুলোর সঙ্গে একটি জোট গঠন করে। মূলত উদারপন্থী ও তরুণ ভোটারদের সমর্থনপুষ্ট প্রগতিশীল দলগুলোর উত্থান ঠেকাতেই এই ‘অসাধারণ’ জোটের সৃষ্টি।
