শিক্ষকের খাবার আনতে দেরি হওয়ায় ছাত্রকে খুন্তির ছ্যাঁকা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৬ এএম

মাগুরার শ্রীপুরে খাবার আনতে দেরি হওয়ায় জুনায়েদ হোসেন (১২) নামে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কমলাপুর দারুল উলুম ইসলামী মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী মাগুরা শহরের আদর্শপাড়ার সুজন মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বরং কাউকে বিষয়টি না জানানোর জন্য ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটি পালিয়ে বাড়ি গেলে ঘটনা জানাজানি হয়। সন্তানের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন শিশুটির বাবা।

শিশুটির বাবা সুজন মিয়ার অভিযোগ, তিনি চার বছর আগে ছেলেকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান। ভর্তির পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু সাইদ শিশুটির ওপর নির্যাতন চালাত। গত বুধবার রাতে সুপারের খাবার আনতে জুনায়েদকে মাদ্রাসার পাশের একটি বাড়িতে পাঠানো হয়। ওই বাড়িতে রান্না দেরিতে হওয়ায় খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় ফিরতেও তার বিলম্ব হয়।

নির্যাতনের শিকার জুনায়েদ জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় ফিরলেও সুপারের ঘনিষ্ঠ দুই ছাত্র ওয়ালিদ ও সিজান তার হাত বেঁধে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে পরনের কাপড় খুলে ফেলে। এরপর গ্যাস লাইটের আগুনে স্টিলের খুন্তি গরম করে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেন মাদ্রাসা সুপার। আর এ ঘটনা জানালে আরও মারধর করার হুমকি দেওয়া হয় তাকে।

তবে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবু সাইদ এ ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘রাতে তাদের মাদ্রাসায় তালা দিয়ে নিজ ঘরে যাই। কিন্তু কখন এটি ঘটেছে তা জানা নেই।’

নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুকুল হোসেন জানান, শিশুটির বাবার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত