এখনো লালসালুতে মোড়া আবু সাঈদ স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০১:৫৯ এএম

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি)-এর শহীদ আবু সাঈদ গেটের সামনে স্থাপিত স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্পে তথ্যগত ভুল থাকায় গত ১৮ জুলাই থেকে তা লাল কাপড়ে মোড়ানো রয়েছে। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তথ্য সংশোধন বা স্ট্যাম্পটি উন্মুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি। বেরোবি প্রশাসনও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেনি।

গত ১৬ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে, যেখানে আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সেখানে এই স্ট্যাম্প স্থাপন করা হয়। তবে স্ট্যাম্পে আবু সাঈদের জন্মতারিখ ভুল (২০০০ সালের ১০ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি), তার শিক্ষার্থী পরিচয় (বেরোবি’র ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী) উল্লেখ না থাকা এবং শাহাদাতের বিবরণে অসংগতির কারণে শিক্ষার্থীরা সমালোচনা শুরু করেন। এর প্রতিবাদে উদ্বোধনের দুদিন পর স্ট্যাম্পটি লাল কাপড়ে মোড়ানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ জুলাই শহীদ দিবসে আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অতিথিরা শহীদ আবু সাঈদ তোরণ, জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে তথ্যগত ভুলের কারণে স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন স্থগিত রাখা হয়। পরে আবু সাঈদের পিতা ও ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফয়েজ আহামেদসহ কয়েকজন অতিথি স্ট্যাম্পটির মোড়ক সরিয়ে উন্মোচন করেন, কিন্তু ভুল তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে তা পুনরায় মোড়ানো হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় এই স্ট্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্ট্যাম্পে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ না করে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায় এড়াতে স্ট্যাম্প স্থাপনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করছে, যা অবিশ্বাস্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার আকিফ জানান, স্ট্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি এবং এটি এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদও বলেন, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়, এলজিইডি ও জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে দায়িত্বশীল, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা সফল হয়নি। গত ২০ আগস্ট এলজিআরডি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান, কিন্তু স্ট্যাম্পের তথ্য সংশোধন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। ফলে স্ট্যাম্পটি এখনো লাল কাপড়ে মোড়া রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. আরমান হোসেন অভিযোগ করেন, স্ট্যাম্প স্থাপনের আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি, ফলে তথ্যগত ভুল ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার অবমাননা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনকে অবহিত করার পর সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো অগ্রগতি নেই।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আবু সাঈদের শাহাদাতের ঘটনা সবাই জানে। তাকে দিনের আলোতে গুলি করে হত্যা করা হয়, কিন্তু স্ট্যাম্পে তা উল্লেখ নেই। এটি ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা। প্রশাসন ও সরকারের নিষ্ক্রিয়তা শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি।

 তারা এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ ও জবাবদিহির দাবি করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত