শিশু অপহরণ করে স্বজনদের সঙ্গে থানায় অপহরণকারী!

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০১ এএম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক প্রবাসীর শিশুসন্তানকে অপহরণ করে শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে থানায় যান এক অপহরণকারী। অপহরণকারীর কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অপহরণের শিকার আট বছরের শিশু আব্দুল্লাহ মেজবাকে উদ্ধার ও চারজনকে আটক করে।

আব্দুল্লাহ মেজবাহ লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা গ্রামের প্রবাসী সালাউদ্দীন মৃধার ছেলে।

অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটকরা হলেন ঘাঘা উত্তরপাড়া গ্রামের উজ্জ্বল শেখ (৩৬), একই গ্রামের বাবুল লস্করের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩৫), যোগিয়া গ্রামের হানিফের ছেলে জান্নাতুল (২০) ও বাবুল লস্করের ছেলে সাকিব (১৭)।

পুলিশ জানায়, আব্দুল্লাহকে অপহরণের মূল পরিকল্পনা করেন ঘাঘা উত্তরপাড়ার উজ্জ্বল শেখ। তিনি ভ্যানচালক জান্নাতুলকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেন এবং সহযোগী রোজিনা বেগম ও তার ছেলে সাকিবকে মুক্তিপণের টাকা থেকে ঋণ শোধ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুল্লাহ স্থানীয় উজ্জ্বল শেখের দোকানে গেলে তাকে দুটি ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর জান্নাতুল, রোজিনা ও সাকিবের সহায়তায় শিশুটিকে লোহাগড়ার নিরিবিলি পিকনিক স্পটের একটি কক্ষে লুকিয়ে রাখা হয়। সেখানে শিশুটির পাহারায় ছিল রোজিনা বেগম।

ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উজ্জ্বল শেখ শিশু আব্দুল্লাহর স্বজনদের থানায় গিয়ে অপহরণের অভিযোগ করতে বলেন। অভিযোগ দিতে আব্দুল্লাহর স্বজনদের সঙ্গে উজ্জ্বলও থানায় যান। এ সময় উজ্জ্বলের কথাবার্তায় অসংগতির কারণে পুলিশের সন্দেহ হয়।

পরে উজ্জ¦লের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে পুলিশ গতকাল রবিবার ভোরে নিরিবিলি পিকনিক স্পট থেকে অক্ষত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় চারজনকে আটক করে পুলিশ।

লোহাগড়া থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু অপহরণের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অক্ষত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আটক চারজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত