সাড়ে ১৪ কোটির অবৈধ সম্পদ পুলিশ দম্পতির

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মো. মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রীর নামে সাড়ে ১৪ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য নোটিস দিয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

দুদকের তথ্যমতে, গাজী মোজাম্মেল হক ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজি হন। বর্তমানে তিনি পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন। তার স্থাবর ও অস্থারব মিলিয়ে ২২ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার পারিবারিক ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার ৪০৭ টাকা। সবমিলিয়ে তার অর্জিত অর্থের পরিমাণ ২৭ কোটি ৪৯ লাখ ১২ হাজার ৩৮২ টাকা। দুদকের অনুসন্ধানকালে তার ১৫ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ৩১৩ টাকা অর্জনের গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া গেলেও বাকি ১১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯ টাকা অর্জনের গ্রহণযোগ্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। তিনি এ পরিমাণ সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন বলে দুদকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

দুদকের তথ্য বলছে, অতিরিক্ত আইজি গাজী মোজাম্মেল হকের স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেল একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। দুদকের অনুসন্ধানে তার ৮ কোটি ৩১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৮ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ৯০৩ টাকা অর্জনের গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া গেলেও বাকি ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৫ টাকা আয়ের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তিনি এ পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাজী মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রীর নামে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ায় তাদের নামে সম্পদ বিবরণীর নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সম্পদ বিবরণীর নোটিস জারির পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের সম্পদের হিসাব দুদকে দাখিল করতে হবে।

অন্যদিকে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালত পুলিশ কর্মকর্তা গাজী মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রী-সন্তানের সম্পদ জব্দ করার আদেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের আদেশে তাদের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত