টানা ভারী বৃষ্টিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব দিয়ে প্রবাহিত তিনটি প্রধান নদী ফুঁসে ওঠেছে। এতে চেনাব, রাভি আরও সুতলেজ নদী তীরের কাছাকাছি গ্রামাঞ্চল পানির নিচে ডুবে গেছে। গত ২৩ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তানের ২ হাজার ২০০ গ্রামের, ২০ লাখের বেশি মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে; মৃত্যুর খবর মিলেছে অন্তত ৩৩ জনের। টানা বর্ষণে তলিয়েছে করাচি-লাহোরের একাধিক এলাকাসহ বিভিন্ন শহরাঞ্চলও। পাঞ্জাব থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানিতে এবার সিন্ধু প্রদেশেও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) তাদের সতর্কবার্তায় পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ভারত যদি অতিরিক্ত তিন লাখ কিউসেক পানি সুতলেজে ছাড়ে তাহলে লাহোর এবং আশপাশের এলাকাগুলো ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হবে। এরই মধ্যে মুলতান রোডের মোলানওয়ালের মতো এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ সাবধান করে বলেছেন, পানি প্রায় ১০ লাখ কিউসেকের কাছাকাছি পৌঁছালে তা প্রদেশের বাঁধগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
পাকিস্তান জুড়ে এবারের বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় এ পর্যন্ত ৮৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। পাঞ্জাবের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ইরফান আলি জানান, সিন্ধু পানি কমিশন, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ এবং সব বিভাগ সক্রিয় রয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হায়দার মালিক জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই বর্ষার শেষ দফা বৃষ্টি দেখা যাবে। এ সময় পাঞ্জাবের পূর্বাঞ্চল, আজাদ কাশ্মীর ও আশপাশের এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে, বলেছেন তিনি।
এদিকে, বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পাঞ্জাব। সোমবার থেকে অব্যাহত ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হলো গুরদাসপুর, পাঠানকোট, ফাজিলকা, কাপুরথলা, তার্নতারণ, হোশিয়ারপুর ও অমৃতসর। শতদ্রু, বিয়াস ও রবি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
