বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ও পিআরে ক্যারিয়ার

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩১ এএম

প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্ধারণ করতে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ও পরিসর বৃদ্ধি, নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে এগিয়ে নিতে কাজ করে। প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাডেমিক পড়াশোনা থাকলে ভালো। অন্য বিষয়ের দক্ষ ও আগ্রহী প্রার্থীরাও এই খাতে সফল হতে পারেন। আগ্রহ, দৃঢ় মনোভাব, শেখার চেষ্টা যে কাউকে সফল করে তুলতে পারে।

ব্র্যান্ড প্রমোশন, পাবলিক রিলেশন এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এই তিন বিভাগের একটির সঙ্গে অন্যটি সম্পর্কযুক্ত। এর সবগুলোই মার্কেটিংয়ের আওতাভুক্ত। তবে এখানে পার্থক্য হলো প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব লক্ষ্য ও কাজের ধরন আছে। যেমন ব্র্যান্ডিং হচ্ছে মার্কেটিংয়ের একটা কোর ফাংশন। এর কাজ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের একটা ইমেজ তৈরি করা, যাতে মানুষের মনে জায়গা করে নেয়। পিআর মূলত কাজ করে জনসংযোগ বা সম্পর্ক তৈরি ও গণমাধ্যম নিয়ে। এর ফলে কাক্সিক্ষত ক্রেতা বা গ্রাহক থেকে শুরু করে জনসাধারণের কাছে প্রতিষ্ঠান, পণ্য বা ব্র্যান্ডের পরিচিতি খুব দ্রুত পৌঁছে যায়। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলা করতে হয় এই বিভাগে।

কাজের সুযোগ

বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, পাবলিক রিলেশন (পিআর) ও ব্র্যান্ড প্রমোশনে সাধারণত বিজনেস, মার্কেটিং, ইকোনমিকস বা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এবং ইংরেজি মাধ্যমের প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। আগ্রহ, শেখার মানসিকতা, কমিউনিকেশন স্কিল, টেকনোলজি ব্যবহারের অভ্যাস, কনটেন্ট লেখার চেষ্টা ও ক্যাম্পেইন প্ল্যানিং বা বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। একজন শিক্ষানবিশ যদি এমন আগ্রহ নিয়ে আসতে চান, তাহলে তিনি অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন।

শিক্ষানবিশদের জানতে হবে তিনি কোন সেক্টরে কাজ করতে চান, সেই সেক্টরের মার্কেট লিডার কে, মার্কেট চ্যালেঞ্জার কে সেগুলো পর্যালোচনা করুন। তারপর সেখানে চাকরির জন্য নিজেকে তৈরি করা। এ জন্য শুরুতে আপনার লক্ষ্য কী সেটা নির্ধারণ করে নিন। সেটা কি লেখালেখি, ডিজাইন, ইভেন্ট নাকি ডিজিটাল সে অনুযায়ী প্রস্তুত হোন। নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করতে নিজের পোর্টফোলিও তৈরি করুন। ছাত্রাবস্থায়ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট বিশ্লেষণ, ব্যবসা বোঝার চেষ্টা, ক্রেতাদের অবস্থা বা আচরণ, ছোটখাটো ক্যাম্পেইন আইডিয়া নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। চেষ্টা করলে শিক্ষানবিশ হয়েও নিজেকে ভালো অবস্থানে নিতে পারবেন।

চাকরির প্রস্তুতি

ইন্টারভিউতে কমন একটি প্রশ্ন, ‘তোমার সম্পর্কে আমাদের কিছু বলো।’ এটা খুব সহজ আবার খুব কঠিন একটি প্রশ্ন! এ ক্ষেত্রে অনেকে হয়তো শুরু করে নিজের নাম দিয়ে। কিন্তু যারা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, তাদের হাতে আপনার সিভি। সেখানে নাম কিন্তু উল্লেখ আছে। এখানে আপনার গল্প বলার ভঙ্গি, কথা বলার সাবলীলতা জরুরি। আর এই গল্পটা বলতে বলতে যেই পদে আপনি আবেদন করেছেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় কী কী গুণ আপনার আছে সেগুলো উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন সেটির ওপরও একটু গবেষণা করতে হবে। আপনার দক্ষতা বা যোগ্যতা আছে, কিন্তু ইন্টারভিউতে তুলে ধরতে না পারলে লাভ নেই। কোন কোন পয়েন্টে বলবেন, সেগুলো আগে থেকেই মাথায় রাখলে গুছিয়ে বলা সহজ হবে।

শিক্ষার্থীরা যা করবেন

পড়াশুনা করা অবস্থায়ই কিছু দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি। যেমন প্রেজেন্টেশন স্কিল, কনটেন্ট লেখার অভ্যাস, ডিজিটাল মার্কেটিং টুলসের প্রাথমিক জ্ঞান, ডাটা অ্যানালাইসিস ইত্যাদি। ইন্টার্নশিপ করার চেষ্টা করুন, ছোট প্রজেক্টে যুক্ত থাকুন এবং নিজের স্কিল ডকুমেন্ট করুন। লিংকডইনে নিজের কাজ শেয়ার করে নেটওয়ার্ক তৈরি করুন। যা ভবিষ্যতে চাকরির জন্য আপনাকে এগিয়ে রাখবে। বাংলা ও ইংরেজিতে কমিউনিকেশন স্কিলস ডেভেলপ করতে হবে। ইংরেজিতে কথোপকথনে সাবলীল হওয়া। এ ছাড়া মাইক্রোসফট এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট, গুগল ডক, এআই অপারেটিং ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে। ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটরের সাধারণ কাজ যদি পারেন, তাহলে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। শিক্ষাজীবন থেকেই সময় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। পাবলিক স্পিকিং বা কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি, ব্র্যান্ড ক্যাম্পেনিং-এর সঙ্গে যুক্ত থাকুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত