রাকসু নির্বাচন নিয়ে জটিলতা বাড়ছেই

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১৮ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনকে ঘিরে জটিলতা কমছে না। ছাত্রদল জানিয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে, তবে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারসহ তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। গতকাল সোমবার তাদের বিক্ষোভের কারণে অনেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে না পারায় নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন বিতরণের সময়সীমা দুই দিন বাড়িয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে রাকসুর প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত তারিখে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে একটি মতবিনিময় সভায় প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে প্রশাসন আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় নিয়েছে।

রাকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। গতকাল বিক্ষোভের কারণে অনেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি, তাই মঙ্গল ও বুধবার পর্যন্ত মনোনয়ন বিতরণ চলবে।

আন্দোলন দমাতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অর্থায়নের অভিযোগ : প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের দাবিতে শাখা ছাত্রদল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, এখন শুধু ভোটাধিকারের দাবিতেই সীমাবদ্ধ নয় তারা। তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন, নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ তুলেছে। ছাত্রদল দাবি করেছে, গত রবিবার তাদের আন্দোলন ভাঙতে প্রশাসন ছাত্রশিবিরসহ তিনটি সংগঠনকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছে। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘গত রবিবার আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়েছে। আমাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়ে মেডিকেলে ভর্তি। আমরা জানতে পেরেছি, এই হামলার জন্য উপাচার্য তিনটি সংগঠনকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন।’

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা কর্মসূচি শেষ করে। তবে প্রশাসন ও শিবির এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ ও ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে গত রবিবার সকালে ছাত্রদল রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে। তারা একটি চেয়ার ভাঙচুর ও টেবিল উল্টিয়ে দেয় এবং কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন মনোনয়নপত্র তুলতে এলে ছাত্রদল তাদের ঘিরে ধরে। দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও বাগবিতণ্ডা হয়। শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের দেওয়া তালা ভেঙে ফেলে। পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মনোনয়ন তুলতে এলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দুপুর ২টায় মনোনয়ন বিতরণ শুরু হয়। ছাত্রদলের নারী নেত্রীরা অভিযোগ করেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। সহসভাপতি সাবিহা আলম মুন্নি বলেন, ‘গতকাল আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের বিরুদ্ধে বুলিং চলছে।’

অর্থায়নের অভিযোগের জবাবে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘এমন হাস্যকর অভিযোগের জবাব দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য ফিরিয়ে না নিলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’

হামলা ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই সত্য বোঝা যাবে। শিবির এসবের সঙ্গে জড়িত নয়।’

উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব মিথ্যা। তারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে এমন কথা বলছে।’

নতুন ৫ জন নতুন মনোনয়ন নিয়েছেন : গতকাল ৫ জন নতুন মনোনয়ন নিয়েছেন, এ নিয়ে মোট ৩৯২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ২৩টি পদে ৩২৩ জন এবং সিনেটের ৫টি পদে ৬৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ১৮ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৭ জন এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৮ জন মনোনয়ন নিয়েছেন। অন্যান্য পদে সাহিত্য ও বিতর্ক সম্পাদক ২ জন, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক ৫ জন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ৫ জন, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ১২ জন, মহিলা সম্পাদক ৫ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ৩ জন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ৯ জন, এবং ক্রীড়া সম্পাদক ৭ জন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৪০ জন মনোনয়ন নিয়েছেন।

১০টি প্যানেল থেকে ১৬৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে গণ ছাত্রজোট ২৩টি, ছাত্রদল ২৬টি, ছাত্রশিবির ২১টি এবং অন্যান্য প্যানেল থেকে বিভিন্নসংখ্যক ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া, ১৭টি আবাসিক হলে প্রায় ৭০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত