২০০১ সালে আরবিট্রেশন আইন করা হলেও, বাণিজ্যের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়নি। ফলে বাণিজ্যবিষয়ক বিরোধসমূহ যদি প্রথাগত আদালতের বাইরে গিয়ে মেটানো যায়, তাহলে একদিকে যেমন আদলতের ওপর চাপ কমবে, সেই সঙ্গে বাণিজ্যের পরিবেশেরও উন্নয়ন হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বিচারিক কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতায় স্থানীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমাগত ব্যাহত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবসায় বিরোধ নিষ্পত্তি ও চুক্তি প্রয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আরবিট্রেশন বিষয়টি এখনো তেমন জনপ্রিয় নয়। এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপনে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী ১ মাসের মধ্যে এটার খসড়া চূড়ান্ত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে বাণিজ্যবিষয়ক আদালতসমূহে বিশেষজ্ঞ বিচারকদের নিয়োগ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রয়োজন।
সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি, বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্ববিষয়ক বিরোধ ক্রমাগত বাড়ছে। নিম্ন ও উচ্চ আদালত সমূহে বর্তমানে অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা প্রায় ৪ মিলিয়ন। মামলা কার্যক্রম পরিচালনার দীর্ঘসূত্রতা স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকে ব্যাহত করছে এবং ২০০১ সালে আরবিট্রেশন অ্যাক্ট হলেও, তা এখনো ভালোভাবে কার্যকর হয়নি।
তিনি বলেন, এ অবস্থার আলোকে অভিজ্ঞ বিচারকদের নিয়োগের মাধ্যমে একটি ‘আলাদা কমার্শিয়াল কোর্ট’ স্থাপন এবং আইনি প্রক্রিয়ার সংস্কার একান্ত অপরিহার্য। যার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আনয়ন সম্ভব।
বাংলাদেশ নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইইউ নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। যা আদেশের মানুষের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের দিকে যাচ্ছে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য জোরারোপ করছে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপন করতে হবে। যেটি বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগে সম্প্রসারিত করবে।
