পার্বতীপুরে আবাসন প্রকল্পের ১০ ঘরে অগ্নিকাণ্ড

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১৯ পিএম

৩০ বছর আগে স্বামী দ্বিজেন মহন্তের মৃত্যু হয়। গৃহহীন লিভা মহন্ত (৬৫) তিন মেয়ে—লিপি, সাধনা ও ফেলানী—কে সঙ্গে নিয়ে গত ২০ বছর ধরে পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের দেউল গরুর ডাঙ্গা আবাসন প্রকল্পে বসবাস করছেন। 

এর মধ্যে মেয়ে সাধনা ও ফেলানীর বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ে লিপি মহন্তের স্বামী ৭ বছর আগে মারা গেছে। ওই সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকরি করছে, আর মেয়ে দিপ্তী রানী মন্মথপুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে লিভা মহন্ত ও তার বিধবা মেয়ে লিপি মহন্তের জীবন অন্ধকার নেমে আসে। 

গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টায় পাশের ঘরে রাখা ভুট্টার লাকড়ি ও খড়ের কারণে আগুন ধরে যায়। ২০ মিনিটের মধ্যেই গরুর ডাঙ্গা আবাসনের ১০টি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। 

আজ বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে মনমথপুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী দিপ্তী রানী বলেন, "আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি সেলাই মেশিন ও টিউশন করতাম। ঘরে থাকা সব বই আগুনে পুড়ে গেছে। আমাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন কী হবে?"

মন্মথপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ আলী শাহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনা খাবার ও কম্বল প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদ্দাম হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ছানা উল্লাহ।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। কলেজ ছাত্রী দিপ্তী রানীর শেলাই মেশিন ও পড়ালেখার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত