ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে নিম্নমানের উন্নয়নকাজ করার সুযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি কাজ করে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশন এ অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা মিলেছে বলে জানা গেছে।
দুদকের তথ্যমতে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) শহর ও নগর অঞ্চলে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে (পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) কারিগরি সহায়তা প্রদান ও এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়নেও এলজিইডি সম্পৃক্ত। এই সম্পৃক্ত থাকার মধ্যে কিছু কিছু উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঠিকাদারি কাজ ও বিল পরিশোধে কমিশন গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এবার অভিযোগের তীর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের দিকে। তার অভিযোগ হলো তিনি অনিয়ম, দুর্নীতি, ঠিকাদারি কাজ ও বিল পরিশোধে কমিশন গ্রহণসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। কমিশন এ অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, দুদক কর্মকর্তা অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ২ জুন উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত চেয়ে ব্যাংক, বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে প্রকৌশলী জাকির হোসেন, স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ও তাদের দুই সন্তানের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের রেকর্ডপত্র দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। দুদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দপ্তর থেকে রেকর্ডপত্র পাঠানো হয়েছে দুদকে, যা দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা পর্যালোচনা করছেন।
দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের কর্মকর্তা তার কাজের এরিয়া সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। দু-একটি উন্নয়নকাজ নিম্নমানের করার তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেবেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
