নেপালে বন্ধ ফেসবুক এক্সসহ একাধিক সামাজিক মাধ্যম

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম

ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ বেশিরভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করতে যাচ্ছে নেপাল সরকার। গত বৃহস্পতিবার নেপাল সরকার জানায়, কর্র্তৃপক্ষের নিবন্ধন প্রক্রিয়া মানতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় দুই ডজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। দেশটির সরকারের ভাষ্য, এই পদক্ষেপ অনলাইনে ঘৃণামূলক বক্তব্য, গুজব এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ। যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুঙ বলেন, আমরা তাদের নিবন্ধনের জন্য যথেষ্ট সময় দিয়েছি এবং বারবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করেছে। ফলে আমাদের নেপালে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হলো। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যক্তি, অভিযোগ নিষ্পত্তিকারী ও স্ব-নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধির তথ্য দিতে কোম্পানিগুলোকে বুধবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। অন্যথায় সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গজেন্দ্র কুমার ঠাকুর জানিয়েছেন, অনিবন্ধিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নিষ্ক্রিয় করা হবে। মেটা (যার মালিকানায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ), ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, এক্স, রেডিট ও লিংকডইনকে বুধবারের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য বলা হয়েছিল। এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারযোগ্য ছিল। ২০২৩ সালের এক নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এ অনলাইন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো যাদের নেপালে বিনোদন, সংবাদ ও ব্যবসার জন্য লাখো ব্যবহারকারী আছে, তাদের নিবন্ধন করতে হবে এবং স্থানীয় অফিস স্থাপন করতে হবে। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি, যেমন : টিকটক ও ভাইবার, আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করেছে। আরও দুটি প্রতিষ্ঠান প্রক্রিয়াধীন।

যদিও বিলটি এখনো সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার মুখ দেখেনি। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি মূলত সেন্সরশিপ আরোপ এবং অনলাইনে সরকারের সমালোচকদের দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করবে। ডিজিটাল রাইটস নেপালের সভাপতি ভোলা নাথ ধুঙ্গানা বলেছেন, হঠাৎ এ ধরনের বন্ধ, সরকারে নিয়ন্ত্রণমূলক মনোভাব দেখায়। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে রাখা ভুল নয়, কিন্তু তার আগে এর জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো তৈরি করতে হবে। হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া মানে নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দেওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত