গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে মব শিকার হয়েছে র্যাব সদস্যরা। এই সময় তারা আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলে অবরোধ মুক্ত হয় র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। র্যাবের সদস্যরা অবরুদ্ধের ঘটনায় গতকাল মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় র্যাব অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। একই মামলায় আরও অজ্ঞাত পরিচয়ের দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
পরে পুলিশ আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে বরমী ইউনিয়নের বরামা চৌরাস্তা এলাকায় র্যাব সদস্যরা অবরুদ্ধে শিকার হন। এ সময় লোকজন একত্রিত হয়ে মব সৃষ্টি করে অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর অন্তত আড়াই ঘণ্টা র্যাবের বেশ কটি গাড়ি লোকজন ঘিরে রাখে অবরোধ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা র্যাবের বিরুদ্ধে নানা সেøাগান দিয়ে বরমী শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখে।
অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে আটক ব্যক্তির নাম মোশারফ হোসেন (৩৫) । তিনি পাশের ঢুলিপাড়া গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি বরামা মোড়ে একটি অটোরিকশা বানানোর গ্যারেজ চালাতেন। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি অস্ত্র উদ্ধার একটি নাটক। বিনা কারণে নিরীহ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতে র্যাব এ অস্ত্র উদ্ধার নাটক সাজিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে এক গাড়ি র্যাব-১ এর সদস্যরা একটি কালো মাইক্রো নিয়ে বরামা চৌরাস্তা মোড়ে এসে দাঁড়ায়। তবে তারা সাদা পোশাকে ছিলেন। এর পরপর পোশাক পরিহিত আরও দুটি জিপ গাড়ি আসে র্যাবের। পরে তারা বরামা মোড়ের উত্তর দিকে রাস্তার পশ্চিম পাশে মোশারফের গ্যারেজে যায়র্ যাব সদস্যরা। পরে সে ঘর তল্লাশি করে অস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় গ্যারেজ মালিক মোশারফকে আটক করে র্যাব।
এরপর এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও মোশারফের আত্মীয়স্বজন একতিত্র হয়ে র্যাবের গাড়ি অবরোধ করে ফেলে। পরে তারা র্যাবের কাছ থেকে আটক মোশারফকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান রাত সাড়ে ৭টার দিকে অতিরিক্ত সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল এসে প্রথমে লোকজনদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। তবে উত্তেজিত জনতা সেনাবাহিনীর সদস্যদের কথা গুরুত্ব না দিয়ে র্যাবের গাড়ি অবরোধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী লাঠি চার্জ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সেনাবাহিনী সহায়তায় র্যাব সদস্যরা অবরোধমুক্ত হয়। তবে কোনো হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় বরামা চৌরাস্তায় স্থানীয় সন্ত্রাসী কাজী জহিরুল ইসলাম লিটন ফাঁকা গুলি ছোড়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এ নিয়ে পরে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেই জেরেই র্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে আসেন। গত রাত থেকেই সন্ত্রাসী লিটন পালিয়ে আছে। কিন্তু আজ অন্য ঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পর র্যাব ও স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে উত্তেজিত জনতা র্যাবের গাড়িগুলো অবরোধ করে রাখে। তারা মনে করে র্যাব এটি নাটক সাজিয়েছে। ব্যবসায়ী মোশারফকে ফাঁসাতে এটি করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন সন্ত্রাসী লিটন পুলিশের সোর্স হিসাবে কাজ করে। এর আগে বেশ কবার লিটন অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। পরে জেল থেকে বের হয়ে ফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে। এলাকায় নানা ত্রাস সৃষ্টি করে লিটন ও তার দলবল।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় র্যাব ১৪ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন এ মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে দেড় শতাধিক।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার চৌধুরী ড. র্যাবের সাদেক জানান বরমীর বরামা এলাকায় র্যাবের সঙ্গে স্থানীয়দের একটা ঝামেলা হয়েছিল। পরে খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর সেনাবাহিনী এলে পরে পুলিশ সেনাবাহিনী মিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
