জেরুজালেমের উপকণ্ঠে এক বাসস্টপে গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১১ জন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। গতকাল সোমবার ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। তবে হামাস বা ইসলামিক জিহাদ কেউই এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এলাতের রামন বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় দুজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ইসরায়েলের জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে হামাসকে শেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, জিম্মিদের মুক্তি দিতে হামাসকে অবশ্যই একটি চুক্তি মেনে নিতে হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের আগ্রাসন ও অবরোধের কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
ইসরায়েলি পুলিশ বলেছে, দুই হামলাকারী গাড়িতে রামোত জংশনের বাসস্টপে এসে গুলি করতে শুরু করেন। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বেসামরিক ব্যক্তি হামলাকারীদের গুলি করে হত্যা করেন। হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র, গুলি ও চাকু ছিল। জেরুজালেমের এ অংশটি ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে দখল করে নেয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলও কাজ করতে শুরু করেছে। এ হামলার উদ্দেশ্য কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হামলার প্রশংসা করে হামাস বলেছে, দুই ফিলিস্তিনি ‘প্রতিরোধ যোদ্ধা’ এতে অংশ নিয়েছেন। তবে হামাস এ হামলার দায় নেয়নি। ইসলামিক জিহাদও এ হামলার প্রশংসা করেছে, তবে দায় স্বীকার করেনি।
তবে ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ড্রোন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এলাতের রামন বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। হামলার পর নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ও উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে ইসরায়েল। তবে দুই ঘণ্টা পরই উড়োজাহাজ ছেড়ে যাওয়া কিংবা অবতরণ শুরু হয়। রবিবার ইয়েমেন থেকে বেশ কয়েকটি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল ইসরায়েলে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অনেক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে একটি ড্রোন বিমানবন্দরে আঘাত হানে। ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের টার্মিনাল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ড্রোনটি শনাক্ত করতে ব্যর্থতার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে হুতির মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাওয়িসহ বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। হুতিরা ওই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।
এদিকে, গাজায় জিম্মিদের মুক্তি দিতে হামাসকে শেষবারের মতো সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল আমার শর্ত মেনে নিয়েছে, এবার হামাসকেও মানতে হবে। আমি হামাসকে সতর্ক করছি, শর্ত না মানলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এটি আমার শেষ সতর্কবার্তা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, গাজায় বন্দি জিম্মিদের অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে ও ইসরায়েল তাদের মরদেহ ফেরত চায়। ট্রাম্প হামাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা বলেছি, এখনই সবাইকে ছেড়ে দাও, সবাইকে মুক্তি দাও, তাহলে তোমাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হবে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৬৪ হাজার ৩৬৮ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এর মধ্যে বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। জাতিসংঘ এ হিসাবকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে, গাজায় দুর্ভিক্ষ আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর সুযোগ এখনো রয়েছে উল্লেখ করে জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা উপত্যকাটিতে অবাধে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজা নগরীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি ইতিমধ্যে দুর্ভিক্ষে ভুগছে বা এর ঝুঁকিতে আছে। জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত একটি সংকীর্ণ জানালা খোলা আছে, যাতে দুর্ভিক্ষ দেইর আল-বালাহ (মধ্য গাজা) ও খান ইউনিসে (দক্ষিণ গাজা) ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়। এ সময়সীমা দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসরায়েল মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১১ সপ্তাহ ত্রাণ সহায়তা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখে। এখন তারা দাবি করছে, খাদ্যসংকট এড়াতে আরও বেশি সাহায্য ঢুকতে এবং বিতরণ করতে দিচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, যে পরিমাণ ত্রাণ গাজায় ঢুকছে, তা চাহিদার সিকিভাগ মাত্র।
