হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বর্ণনায় পুলিশ সুপারের বক্তব্য প্রেস রিলিজে গড়মিল

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৮ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যার ঘটনা বর্ণনায় পুলিশ সুপারের বক্তব্যে গড়মিল পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন হত্যার শিকার সুমাইয়া আক্তার ও তার মাকে তিন ঘণ্টা ধরে অজ্ঞান করে তারপর হত্যা করে কবিরাজ মোবারক হোসেন। এছাড়াও ধর্ষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে এটাও তিনি বলেননি।

কিন্তু তাদের দেওয়া প্রেস রিলিজে বলা হয়, আসামি মো. মোবারক হোসেন সরাসরি ভিকটিম সুমাইয়া আফরিন রিনথির রুমে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তার মা তাহমিনা বেগম ফাতেমা দেখে ফেলেন। পরে তিনি আসামিকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মোবারক হোসেন ও তাহমিনা বেগম ফাতেমার মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরবর্তীতে আসামি মোবারক হোসেন ভিকটিম তাহমিনা বেগম ফাতেমা-কে তার রুমে নিয়ে গিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেন।  

অতঃপর আসামি আবারও ভিকটিম সুমাইয়া আফরিন রিনথির রুমে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং সে প্রতিরোধ করতে গেলে তাকেও গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর আসামি মোবারক ভিকটিমের বাড়িতে থাকা ৪টি মোবাইল ও ১টি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এখানে কোথাও উল্লেখ নেই যে তিন ঘণ্টা কবিরাজ তাদেরকে অজ্ঞান করে রেখে তারপর হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে সুমাইয়ার বান্ধবী হুমায়রা তাসনিম প্রমি বলেন, আমরা গণমাধ্যম সূত্রে প্রথমে জানতে পেরেছি পুলিশ সুপার বলেছেন তিন ঘণ্টা সুমাইয়া ও তার মাকে অজ্ঞান করে তারপর হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু প্রেস রিলিজের কোনো কিছু উল্লেখ নেই। তাহলে পুলিশ সুপার কি কোন কিছু গোপন করতেছে? 

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানকে তদন্তে গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মোবারক হোসেন। পেশায় তিনি একজন কবিরাজ। সুমাইয়াকে কথিত জ্বীনে ধরায় তিনি সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়া দিতে প্রায়ই বাসায় যেতেন।  এরপর গতকাল আনুমানিক ২.৩০ টায় সুমাইয়া ও তার মাকে হত্যা করা হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত