কাতারের রাজধানী দোহায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গত মঙ্গলবার শহরের লেগতিফিয়া পেট্রোলস্টেশন থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। পেট্রোলস্টেশনের কাছেই একটি ছোট আবাসিক মহল্লা রয়েছে, সেখানেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা রক্ষা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য সুহাইল আল-হিন্দি। তবে এ হামলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলায় হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়্যার ছেলে হুমামসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কাতার এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েল।
হামাসের দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলার সময় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটির নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের তরফে প্রস্তাব করা সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এতে অন্যদের মধ্যে হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান ও শীর্ষ আলোচক খালিদ আল-হাইয়্যা উপস্থিত ছিলেন। আলজাজিরাকে সুহাইল আল-হিন্দি একাধিকবার নিশ্চিত করেছেন যে, হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা কেউ মারা যাননি, তারা স্বাভাবিক আছেন। তিনি বলেন, এই হামলা প্রাথমিকভাবে হামাস ও কাতারকে লক্ষ্য করে হলেও, এটি সব আরব, মুসলিম ও সারা বিশ্বের মুক্ত মানুষের ওপর আগ্রাসন। গাজা যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনাকারীদের হত্যার চেষ্টা- মুক্ত বিশ্বকে অবশ্যই এই জঘন্য অপরাধ প্রত্যাখ্যান করতে হবে, বলেন সুহাইল। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বন্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘অপরাধমূলক হামলা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক সব আইন ও নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইসরায়েল এই হামলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছে।’ এ কথার মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহায়তা ছাড়াই ইসরায়েল একাই এই হামলা চালিয়েছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ‘হামাসের আবাসিক সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে এই হামলা হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন নিরাপদ। জাতিসংঘ, ইরাক, জর্ডান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে, হামাস নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে কাতারে পরিচালিত ইসরায়েলি বিমান হামলায় নাখোশ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, হামলা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়েই আমি প্রচণ্ড অখুশি। পরিস্থিতি খুব একটা অনুকূলে নেই। তবে আজ ঘটনা যেভাবে মোড় নিল, সেটা নিয়ে আমরা খুশি না হলেও স্পষ্ট বলছি, আমরা জিম্মিদের ফেরত চাই। এই হামলা হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে দোহায় চলমান শান্তি আলোচনাকে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি বলেছেন, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কাতার এ হামলার জবাব দেবে।
