উপদেষ্টা বললেন

পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা কাজে না ফিরলে ব্যবস্থা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৫২ এএম

আন্দোলনের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে গণছুটিতে থাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবিলম্বে কাজে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

কর্মীরা কাজে না ফিরলে বিকল্প ব্যবস্থা আছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা সরকারের আহ্বান সত্ত্বেও কাজে ফিরে আসবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পল্লী বিদ্যুৎ সচল রাখার জন্য হাজার হাজার লোক কাজ করতে আসছে। আমরা পুরনোদের নিয়েই কাজ করতে চাই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের আন্দোলন নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জ্বালানি উপদেষ্টা।

ফাওজুল কবির বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিছু দাবি যৌক্তিক। সামনে নির্বাচন, কিন্তু সবাই নির্বাচন চায় তা না। যারা চায় না, তারাও এ আন্দোলনে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আমরা তা মনে করতে চাই না। হয়তো ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা কাজের বাইরে আছেন। যদি ফিরে না আসেন, তাহলে ধরে নেব এর পেছনে কারও ইন্ধন আছে। তবে সরকার চায়, সমস্যা সমাধানে আলোচনার পথ খোলা থাকুক।’

তিনি জানান, আন্দোলন শুরু করার পর কিছু কর্মকর্তাকে বদলি এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর মে মাসে তারা আবার আন্দোলনে নামে। পরে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ হাজার ২৯ জনকে বদলি করা হয়েছিল, যার মধ্যে কিছু রুটিন বদলিও ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয় এবং এরই মধ্যে ৮০৩ জনকে আগের কর্মস্থলে বহাল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের আরেকটি দাবি ছিল যে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ৩৬৪টি বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এখানে কর্মী বেশি, তাই মামলার সংখ্যাও বেশি। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (আরইবি) মামলা হয়েছে ৬৪ জনের বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীদের এ দাবি সঠিক নয়।

ফাওজুল কবির বলেন, গণছুটির কর্মসূচি ঘোষণার পর একটি নোটিস দেওয়া হয়। এরপর অনেকেই কাজে ফিরেছেন। আরও অনেকে ফিরতে চান, কিন্তু কেউ কেউ বাধা দিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। গণছুটির ফলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা হয়নি। আন্দোলনরতদের সব দাবি আমরা বিবেচনা করছি। কিন্তু ছুটিতে থেকে কাজে বিঘœ ঘটালে তাদের দাবি বিবেচনা করা সম্ভব হবে না। সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট সহনশীলতা দেখাচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমিতিগুলোকে কোম্পানিতে রূপান্তর করা যায় কি না, সে বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যার জন্য আইন ও বিধি সংশোধন এবং সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ কমিটি তদন্ত করে দেখবে কীভাবে ও কারা কী কী দুর্নীতি করছেন।

তিনি জানান, পল্লী বিদ্যুতের ৮০টি স্টেশনের মধ্যে ১২টি লাভজনক হলেও ৬৮টিই লোকসানে আছে। এ ছাড়া বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তার দুয়েকটি আবার পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও দুয়েক দিনের মধ্যে সচল হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন। সারা দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো রয়েছে বলে দাবি করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা।

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে না সরকার এবং দাম বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেই। দাম না বাড়িয়েই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। গ্যাসের ঘাটতি কমাতে সরকার বেশি পরিমাণে এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ির পুরনো গ্যাস লাইনগুলোর মেরামত ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ চলছে।

এ সময় বাসাবাড়িতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘না, বরং বাসাবাড়িতে আমরা যে গ্যাস দিই, সেটা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আমার ওপর চাপ আছে। কিন্তু আমি বন্ধ করি না, কারণ এটা যদি করি তাহলে আমি আমার নিজের বাসায় ঢুকতে পারব না।’

সম্প্রতি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়েকটি অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী হঠাৎ গণছুটিতে চলে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণে বিঘœ ঘটে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর থেকেই এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত