সংসদ নির্বাচন আয়োজনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৫ এএম

গণতান্ত্রিক উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলো এখনো একমত না হতে পারায় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও নিজেদের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়তোবা পোষণ করতে পারিনি। সময় আছে, এর ভেতর আশা করি সবাই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই ঐকমত্যে পৌঁছতে পারব।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ : সফল নির্বাচন আয়োজনে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং মুক্ত গণমাধ্যম অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রক্ষাকবচ। এগুলো নিশ্চিত হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আগামীতে আর কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না।’

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন পরস্পর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘যে সংস্কারগুলো আশু বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো নির্বাহী আদেশ ও অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা যায় এবং করা হচ্ছে। যেগুলো আশু বাস্তবায়নযোগ্য নয় কিন্তু উদ্যোগ নিতে হবে সেগুলো সরকার নিতে পারে। যদি এ সরকার সেগুলো পূর্ণাঙ্গ না করতে পারে, তাহলে পরবর্তী সরকার সেটা করবে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ জিজ্ঞেস করছে যে, প্রতিশ্রুতি যে বাস্তবায়ন হবে তার গ্যারান্টি কী? প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যই এ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার সমগ্র পলিটিক্যাল পার্টিগুলো শুধু ফ্যাসিবাদ বাদে সরকার, জনগণ সবাই মাসের পর মাস পরিশ্রম করতে করতে এখন এক বছর পার হয়ে গেছে এ ডকুমেন্টটা প্রণয়ন করতে। সেটা সমগ্র জাতি দেখেছে ওপেন এয়ার ব্রডকাস্ট হয়েছে। এ ডকুমেন্টটা আর্কাইভে থাকবে, এ ডকুমেন্টটা বাস্তবায়ন না করে কোনো পলিটিক্যাল পার্টি বাংলাদেশের রাজনীতি করতে পারবে? আমি বিশ্বাস করি না।’

সালাউদ্দিন বলেন, ‘অনেকে বলে আপনারা বাস্তবায়ন করবেন না। আমি বলি, বিএনপি যে সরকার গঠন করবে এটা কেউ শপথ করে বলেছে? আমাদের কেন দায়ী করেন? আমি বলব, যারা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন সামনে শব্দটা ওইভাবে হওয়া উচিত। তারাই সবাই মোরালি অবলিগেটেড থাকবেন এটা বাস্তবায়নের জন্য এ সনদের মধ্য দিয়ে।’

সংবিধান-সংক্রান্ত সংশোধনীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করার বৈধ ফোরাম জাতীয় সংসদ। এর বাইরে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া আছে কি না, তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হচ্ছে। যদি থাকে তাহলে তারা একমত হবেন। কিন্তু এমন কোনো উদাহরণ সৃষ্টি হোক তারা চান না, যেটি পরবর্তী সময়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে এবং প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত হবে।’

জুলাই হত্যার বিচার নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘জনগণ বুঝেছে বিচার কোনো শর্তসাপেক্ষ বিষয় নয়। বিচারের জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া যায় না। বিচার কার্যক্রম স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। যে সরকারই আসুক, তাকে সেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নারী আসনের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকেই ৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য কোনো দলের পক্ষ থেকে নয়। এবার সংবিধানে সংশোধনী হওয়ার আগে আসন্ন নির্বাচনে ৫ শতাংশ সরাসরি মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আমাদের এ প্রস্তাব ছিল ৩০০ আসনের মধ্যে এবং সংসদ গঠিত হলে সংবিধানের যে সংশোধনী আসবে, সেই জায়গায় এটা ১০ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে এবং সবাই অ্যাগ্রিড হয়েছে। কেউ কেউ নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে অবশ্য। সেই ১০ শতাংশ আসলে তখন ৩০টা সিট হবে কিন্তু বিদ্যমান ৫০টা সংরক্ষিত আসন থেকেই যাচ্ছে। তখন সেটা হবে ৮০টা। এই ৮০ সিটের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সংসদের জন্য বলা হয়েছে ৫ শতাংশ করে বাড়বে। তখন আরও ৫ শতাংশ হলে প্রায় এটা একশর কাছাকাছি যাবে। এভাবে বলা হয়েছে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত যতদিন পর্যন্ত উন্নীত না হচ্ছে, ততদিন রিজার্ভ ৫০ সিটটা থাকবে এবং ৩৩ শতাংশ উন্নীত হলে তখন সেটা আর লাগবে না।’

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত