ইসলামী ফ্রন্টের বিবৃতি

মাজার-মসজিদ স্থানান্তরের আবেদন ধর্ম অবমাননা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১৮ এএম

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে মাজার স্থানান্তর ও বহুতল মসজিদ নির্মাণ পুনর্বিবেচনার জন্য এক আইনজীবীর আবেদনের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সুন্নিপন্থি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। তারা বলছে, নিরাপত্তার অজুহাতে হাইকোর্ট মাজার শরীফ ও মসজিদ সরানোর আবেদন করা সরাসরি ইসলাম অবমাননার শামিল।

গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান আল্লামা এমএ মতিন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা স উ ম আবদুস সামাদ এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে ইসলামী ফ্রন্ট নেতারা বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে হাইকোর্ট মাজার শরীফ ও মসজিদ সরানোর আবেদন করা সরাসরি ইসলাম অবমাননার শামিল। বাংলার জনগণ তা কখনো তা মেনে নেবে না, দেশবাসী এ ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে মাজার প্রাঙ্গণ থেকে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট অন্যত্র সরিয়ে নিন। ঢাকা যখন ঢাকা হয়নি, তখন এ মাজার শরীফ প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার ৬০৭ বছর পূর্বে ওলী-এ-বাংলা হযরত শাহ্ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী রহমাতুল্লাহি আলাইহির মাজার প্রতিষ্ঠা হয়। ওলী-এ-বাংলা ৭৩৮ হিজরী মোতাবেক ১৩৪০ ইংরেজি ওফাত লাভ করেন, আর ঢাকা হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৪৭ সালে। হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাইকোর্ট মাজার হিসাবে খ্যাত হয়।

ইসলামী ফ্রন্ট নেতারা বলেন, ভুলে গেলে চলবে না যে, এদেশে পবিত্র ইসলাম ধর্ম এসেছে পীর-আউলিয়াদের মাধ্যমে। বর্তমানে সেই ইসলাম প্রচারক মহান পীর আউলিয়াদের মাজার ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে উগ্রবাদী ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী চক্র। আমরা তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, আল্লাহর অলিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এ বাংলায় কখনো শান্তি স্থাপিত হবে না। ২৪ ‘র গণআন্দোলন পরবর্তী ১০০টির অধিক মাজার-খানকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হামলা হয়েছে। এতদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সুফিবাদী ও অহিংস হওয়ার কারণে এসব মব-সন্ত্রাস ও সহিংসতা করে পার পেয়েছে। সুন্নী জনগোষ্ঠির ধর্মীয় অনুভূতিতে বারবার আঘাত করলে সুন্নীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়তে শুরু করলে সন্ত্রাসীরা আর কোনো ছাড় পাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত