চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হচ্ছে আজ রবিবার। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচনের ফলাফলও চবি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটার তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের তালিকা চাকসু নির্বাচনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন গতকাল শনিবার মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন আয়োজনে আমরা আশাবাদী। সব পক্ষের সহযোগিতা পাচ্ছি, কোনো ছাত্র সংগঠন বা অন্য পক্ষ থেকে বাধা বা চাপ নেই।’
মনোনয়নপত্র বিতরণ আজ সকাল ৯টা থেকে চাকসু নির্বাচন কমিশনের অফিসে (চাকসু ভবন, দ্বিতীয় তলা) শুরু হওয়ার কথা। প্রার্থীরা ১৫ আগস্ট থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। জমাদানের শেষ তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমাদানের সময় বৃদ্ধি করা হবে না। তিনি বলেন, ‘তিন দিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই।’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, হল সংসদের মনোনয়নপত্রের ফি ২০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় সংসদের ফি ৩০০ টাকা।
আচরণবিধি অনুযায়ী, সব প্রার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে ডোপ টেস্ট করাতে হবে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের কার্ড দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে, যার ফি জনপ্রতি ৩৫০ টাকা। ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফলাফল পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল হবে।
সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ৬টি ছাত্র সংসদ গঠিত হয়েছে। ১৯৬৯-৭০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম কেবিনেট গঠিত হয়, যেখানে মো. ইব্রাহিম ভিপি এবং মো. আব্দুর রব জিএস নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭০-৭১ ও ১৯৭১-৭২ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় কেবিনেটে আ. ম. শামসুজ্জামান ভিপি এবং মো. নাছির উদ্দিন জিএস ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় কেবিনেটে এস.এম. ফজলুল হক ভিপি এবং মো. গোলাম জিলানী চৌধুরী জিএস নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ শিক্ষাবর্ষে মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী ভিপি এবং জমির উদ্দিন জিএস ছিলেন। ১৯৮০-৮১ শিক্ষাবর্ষে মো. জসীম উদ্দিন সরকার ভিপি এবং মো. আব্দুল গফফার জিএস নির্বাচিত হন। ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে মো. নাজিম উদ্দিন ভিপি এবং আজীম উদ্দিন আহমেদ জিএস ছিলেন।
এদিকে আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস-সংলগ্ন কটেজগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বেশি।
চবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সাদেকা তামান্না বলেন, ‘বহু বছর পর চাকসু নির্বাচন হচ্ছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ।’
চবি শিক্ষার্থী মাহমুদ তারেক বলেন, ‘ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের তুলনায় চাকসু নির্বাচন আরও সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা প্রার্থীরাই নেতৃত্বে আসবেন।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী। কমিশনের সদস্যদের দলীয় পরিচয় থাকলেও স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা করব। কোনো ছাত্র সংগঠন বাধা সৃষ্টি করছে না। শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেব।’
গত ২৮ আগস্ট ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা এবং ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। ভোটগ্রহণ হবে ১২ অক্টোবর, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
