ঢাবি প্রশাসনের ভাষ্য

ক্যান্টিনে হল সংসদ নেতাদের জরিমানা অবৈধ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলে নির্বাচিত হল সংসদ নেতাদের দোকানদার ও ক্যান্টিনকে জরিমানা করা নিয়ে উঠেছে বিতর্ক। খাবারে ক্ষতিকর টেস্টিং সল্ট রাখার অভিযোগে দুই হলের তিনজন দোকানদারকে জরিমানা করেছেন নবনির্বাচিত হল সংসদ নেতারা। এমনকি আরেকটি হলে দোকানদারদের ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের জরিমানা করার কোনো আইনগত বৈধতা নেই।

জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর মাস্টারদা সূর্য সেন হলে এক দোকানে এক কেজি টেস্টিং সল্ট মজুদ ও রান্নায় ব্যবহারের অভিযোগে ওই হল সংসদের নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক দোকানদারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ নিয়ে একটি লিখিত চুক্তিও হয়। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, জরিমানার টাকা তিন দিনের মধ্যে না দিলে দোকানের চুক্তিনামা বাতিলের জন্য হল অফিসে সুপারিশ করা হবে এবং জরিমানার অর্থ হল অফিসের মাধ্যমে আদায় করা হবে।

একই ধরনের ঘটনা ঘটে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে। সেখানে সদ্য নির্বাচিত হলের ক্যান্টিন পরিদর্শনকালে টেস্টিং সল্টের উপস্থিতি নজরে আসে খালেদ হাসানের। পরে এটিকে কেন্দ্র করে তিনি ক্যান্টিন মালিককে ১ হাজার টাকা জরিমানার একটি নোটিস দেন। তিন দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধসহ হল প্রশাসনের কাছে জবাবদিহির কথাও উল্লেখ রয়েছে নোটিসে। এ ঘটনার পর খালেদ হাসান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, টিনশেড ক্যান্টিনের মোস্তফা ভাইয়ের দোকানে ক্ষতিকর টেস্টিং সল্ট পাওয়ায় ১০০০ টাকা জরিমানাসহ তিন কার্যদিবসের মধ্যে হল সংসদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য দোকানে সমাজসেবা সম্পাদক জহির রায়হান টেস্টিং সল্ট রাখার অভিযোগে এক দোকানদারকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এদিকে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ বিভিন্ন দোকানদারকে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে ব্যবস্থা নেন। তবে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু দোকানদারদের সতর্ক করেছি। প্রকৃত জরিমানার বিষয় হল প্রশাসন ঠিক করবে।’

মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ভিপি আজিজুল হক জানান, দোকানে তল্লাশি চালিয়ে টেস্টিং সল্ট পেয়ে তিনি দোকানদারকে জরিমানা করেন। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি, চিঠিও পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। জরিমানার অর্থ আদায় করবে হল অফিসই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জরিমানা তারা করতে পারে না। এটা তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তারা যা করবে হল প্রশাসনের মাধ্যমে করবে। হল প্রতিনিধি হিসেবে এখানে তাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে, এটাই তো তাদের কাজ। তবে সেটা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত