জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী সংগঠন হয়ে উঠতে পেরেছে কারণ সংবিধান তাদের সে সুযোগ দিয়েছে। শেখ মুজিবের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য সংবিধান সাজানো হয়েছিল, সেই সংকট আজও কাটেনি। তাই এই সংবিধান দিয়ে দেশ চালানো সম্ভব নয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কেমন সংবিধান চাই?’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা মোটরে জাতীয় যুবশক্তির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসাসহ দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীরা।
কেমন সংবিধান চান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, আমরা এমন সংবিধান চাই যা মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষা করবে, বিচার বিভাগ স্বাধীন রাখবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বজায় রাখবে এবং সব শ্রেণি-পেশা, ধর্ম-বর্ণের অধিকারকে ধারণ করবে। তিনি বলেন, এই দেশের শাসনতান্ত্রিক সংকট ছিল, একই সঙ্গে যারা শাসন করেছেন তাদের নিয়েও সংকট ছিল। এ কারণে ২৪-এর অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সংবিধানকে কাক্সিক্ষত রূপ দিতে মানুষ জীবন দিয়েছে। যদি শেখ হাসিনার পতনই মূল প্রাপ্তি হতো তাহলে নতুন বাংলাদেশ ২.০ সেøাগান উঠত না।
এনসিপি সদস্য সচিব বলেন, এ দেশে যারাই ক্ষমতায় গেছেন তারা রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে অপশাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছেন। এজন্য ঐক্যবদ্ধ কমিশনে আমরা ৪৩টি পয়েন্টে সংবিধান সম্পর্কিত বিষয় উল্লেখ করেছি। সংবিধান সংশোধন নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ যে, এই সংবিধান দিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্র শেখ হাসিনা গলাটিপে হত্যা করেছে। ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে গণতন্ত্রকে কফিনে ভরে কবরে পাঠানো হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। আখতার আরও বলেন, কয়েকটি দল উচ্চকক্ষে পিআর নিয়ে ঐকমত্য হতে পারছে না। তারা মনে করে, পিআর হলে সরকার দুর্বল হবে। কিন্তু সরকার গঠন উচ্চকক্ষের ওপর নির্ভর করে না, বরং নিম্নকক্ষের ওপর নির্ভরশীল। কোনো দল মেজরিটি ভোট পেলে তারাই সরকার গঠন করবে। সুতরাং সরকার দুর্বল হওয়ার যুক্তি দুর্বল এবং এটি জনগণকে বোকা বানানোর প্রচেষ্টা।
আখতার হোসেন বলেন, এই সংবিধান যদি নতুন করে লিখতে না পারি তাহলে আগের সংবিধানের সমস্যা রয়ে যাবে। যেকোনো সময় আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে কোর্ট তা বাতিল করতে পারে। তিনি বলেন, জুলাই সনদে বর্ণিত বিষয়গুলোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে তার ভিত্তিতে সামনের নির্বাচন দিতে হবে। আইনি ভিত্তি না থাকলে তা কার্যকর হয় না এবং তা ভঙ্গ হলেও আইনগত প্রতিকার পাওয়া যায় না। তাই গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠায় জুলাই সনদের বিষয়গুলোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সামনের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
