স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে এ কথা লেখেন তিনি।
এলডিসি থেকে উত্তরণে উদ্বিগ্ন হওয়ার অনেক বিষয় রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান লেখেন, এতে অর্থনীতি ও জনগণ সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। এ ছাড়া, পোশাক খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা, বাণিজ্য সরবরাহ এবং আধুনিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
তিনি আরও লেখেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ভর্তুকিসহ যেসব বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে তা আর পাওয়া যাবে না। এতে প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ঝুঁকিমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। পোস্টে দেশের রিজার্ভ ও ঋণের চাপে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পিআর চাইলে জাতীয় জীবনে ভয়ংকর পরিণতি আসবে : কিছু আসন বেশি পাওয়ার লোভে কেউ সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইলে জাতীয় জীবনের জন্য ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা একটা পরীক্ষিত পদ্ধতি। তার বাইরে কেউ যদি রাজনৈতিক স্বার্থে অথবা কিছু আসন বেশি পাওয়ার লোভে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইলে জাতীয় জীবনের জন্য একটা ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে আসবে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসায় সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের সূচিতে নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব না থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ আন্দোলনে নামলে রাজনৈতিকভাবেই তা মোকাবিলা করবে বিএনপি।’
জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল নিষিদ্ধের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পরিণাম ভবিষ্যতে ভয়ংকর চর্চায় রূপ নেবে। নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করতে গেলে স্বৈরাচারের সঙ্গে যুক্ত ২৮টি দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে। নির্বাচন কাদের নিয়ে হবে? এটার উদ্দেশ্য এমন হতে পারে যে, নিজেদের অতিরিক্ত সুবিধা নিতে আন্দোলনকারীরা আরও দলের নিষিদ্ধের দাবি জানাতে পারে। এতে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হবে। এ সূত্র ধরে পতিত শক্তি সুযোগ নেবে।’
তিনি আরও জানান, ‘নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ চায় না বিএনপি। বরং এ বিষয়ে বিচার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা উচিত।’ সঠিক সময় নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে না পারলে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাও হুমকিতে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
বৈধ প্রক্রিয়ায় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন হবে, এমন প্রস্তাবে বিএনপির সমর্থন থাকবে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তবে এমন কোনো প্রক্রিয়াকে বিএনপি উৎসাহিত করবে না, যেই বিধান ভবিষ্যতে দেশে অরাজকতা তৈরি করবে। আলোচনার টেবিলে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
