চবিতে সেমিনারে বক্তারা

এদেশে আর কেউ যেন হাসিনা হয়ে উঠতে না পারে

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৩২ পিএম

জুলাই বিপ্লবের মূল্যবোধ ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেটকে ধারণ করে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস এই পরিক্রমা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। জুলাই বিপ্লবের মূল্যবোধ ধারণ করে এদেশর রাজনীতির গতিপ্রকৃতিকে নির্ধারণ করতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই বিপ্লবের পূর্বাপর: বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি’ শীর্ষক সেমিনারে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা। 

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা কেন্দ্রের উদ্যোগে সেমিনার আয়োজন করা হয়।

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ জি এম নিয়াজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সমাজ ও রাষ্ট্র চিন্তা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্ল্যা পাটওয়ারী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কী নোট- স্পিকার হিসেবে ছিলেন ইউজিসির সাবেক সদস্য, বাহরাইনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে খুবই নিষ্ঠুরতার সঙ্গে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনকাঠামো তৈরি করেছে। তার দমন নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে এদেশের ছাত্র-জনতা। গেল বছরের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নির্লজ্জভাবে দেশ থেকে বিদায় নেয় শেখ হাসিনা। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, দেশের সর্বস্তরের মানুষ এক দুঃখের সাগর পার করেছে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য বিশ্বের অন্যান্য গণঅভ্যুত্থানের চেয়ে ভিন্ন। এই গণ-অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেটকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবকে সঠিকভাবে ধারণ করে দেশে একটি গণতান্ত্রিক শাসনকাঠামো তৈরি করতে হবে। এই বিপ্লবে ছাত্র, শ্রমিক, কুলি, মজুরসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। দেশকে সংস্কার ও নতুনভাবে পুনরায় সকল কাঠামো মেরামত করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য। এই ঐক্যকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে যতগুলো বিপ্লব হয়েছে তার সুফল যথাযথভাবে এদেশের মানুষ পায়নি। এটার কারণ উদঘাটন করতে হবে। এদেশের ছাত্রজনতার যথাযথ অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে সর্বস্তরে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানুষ হওয়ার জন্য আমাদের ছাত্রজনতার গুণাবলীকে আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবির সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, আমরা সবাই আগামী বছরে নির্বাচন চাই। কিন্তু সংবিধানে আছে ৫ বছর পর পর জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। তবে আগামী বছরের নির্বাচনের ম্যান্ডেট দেওয়া আছে জুলাই সনদে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজারও শিক্ষার্থীকে পাখির মতো হাসিনা গুলি করে হত্যা করেছে। তাই আমাদের এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যেন এদেশে কেউ আর হাসিনা হয়ে উঠতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলছেন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে বাস্তবে সংস্কার হলো খেলার নীতিমালার মতো। অর্থাৎ খেলার আগে যেমন খেলার নীতিমালা তৈরি করতে হয় তেমনি দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন হলো সংস্কার। হাসিনার আমলে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। ফলে আমরা চাই না আরেকটা সরকার এসে এমন লুটেরা সংস্কৃতি তৈরি করুক। আমরা সম্পদ লুটের এই ব্যবস্থা তৈরি হতে দিতে চাই না। আমাদের অবশ্যই নির্বাচন করতে হবে। তবে নির্বাচনের আগে দেশের যথাযথভাবে সংস্কার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. এ কে এম মাহফুজুল হক (মাহফুজ পারভেজ)। তিনি বলেন, অনেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করেছে। তবে কেউ কেউ সুবিধাবাদী চিন্তা থেকে নিজেকে জুলাই বিপ্লবের ভ্যান গার্ড হিসেবে হাজির করে। দেশকে সঠিক রাস্তায় সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে জুলাইয়ের মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. তারেক ফজল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবীর, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগম, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহেদুর রহমান চৌধুরী, ছাত্রছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাফর উল্লাহ তালুকদার, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. খাদিজা মিতু, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশরেকা অদিতি হক, সহকারী অধ্যাপক ড. তনিমা সুলতানা, প্রভাষক সাদেকা তামান্না।

সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত