বিএনপি নেতাকে না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা!

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০৪ এএম

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আনিসুর রহমান উত্তমকে না পেয়ে তার স্ত্রী লিলি আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুইজবাড়ি বাজারের পাশে লিওন বেকারির মালিক ছিলেন মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনিসুর রহমান উত্তম। মঙ্গলবার রাতে ৪-৫ জন মুখোশধারী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বেকারিতে প্রবেশ করে আনিসুর রহমানকে না পেয়ে তার স্ত্রী লিলি আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা আহত লিলি আক্তারকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আনিসুর রহমান উত্তমের বাড়ির পাশে ‘লিওন বেকারি’ নামে তাদের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরি রয়েছে। প্রতিদিন মাগরিবের নামাজের পর উত্তম ফ্যাক্টরিতে গিয়ে তদারকি করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তমের ফ্যাক্টরিতে যেতে দেরি হওয়ায় তার স্ত্রী লিলি আক্তার সেখানে যান। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে লিলিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তারা জানান, ফ্যাক্টরির বাইরে দুজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিল, আর মুখোশ পরা কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনিসুর রহমান উত্তমকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়। তাকে না পেয়ে দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রী লিলি আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করে। 

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, ‘আনিসুর রহমান উত্তমের স্ত্রীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। উত্তমকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।’

টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানবীর আহমেদ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। 

খুলনা বিএনপির নেতার বাড়িতে হামলা গুলি : খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবুর বাড়িতে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপসা উপজেলার আইচগাতী গ্রামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আটটি মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন যুবক খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবুর বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাঁচজন যুবক বাবুর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

দলীয় সূত্র জানায়, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসার পর শেখ আবু হোসেন বাবু সম্প্রতি রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছিলেন। তাদের ধারণা, বাবুর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিপক্ষরা এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের সময় তিনি বাড়িতেই ছিলেন। খবর পেয়ে রূপসা থানার ওসি মুহম্মদ মাহফুজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

রূপসা থানার ওসি মুহম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবুর বাড়িতে বোমা হামলার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার বিকেলে রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের সরকারি বেলফুলিয়া কলেজের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্থানীয় বিএনপি।

অন্যদিকে শেখ আবু হোসেন বাবুর বাড়িতে বোমা হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন খুলনা বিএনপির নেতারা। বিবৃতিদাতারা হলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত