আজ থেকে ৪০ বছর আগে উগান্ডা থেকে গণ্ডার পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকে তৎকালীন স্বৈরশাসক ইদি আমিনের শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, চোরাচালান ও শিকারের কারণে তাদের সংখ্যা প্রায় ৭০০ থেকে শূন্যে নেমে আসে। তবে একজন খামারির হাত ধরে আবার দেশটিতে ফিরে এসেছে বন্য এ প্রাণী। সেখানকার বেসরকারি খামার জিওয়া র্যাঞ্চে এখন গ-ার আছে প্রায় অর্ধশত। এটি এক সময় ছিল গরুর খামার। যেখানে সাত হাজার গরু ঘুরে বেড়াত; আর এটি এখন উগান্ডার গণ্ডারদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করছে।
এক সময় ধূসর ও সাদা গন্ডারের আবাসস্থল ছিল উগান্ডা। দেশটির মধ্যাঞ্চলে প্রায় ২৭ বর্গমাইল (৭০ বর্গকিলোমিটার) এলাকায় বিস্তৃত জিওয়া র্যাঞ্চ নামের এই খামারে রয়েছে প্রচুর সবুজ ঘাস, জলাভূমি, বনাঞ্চল। এখন আর সেখানে গরু নেই। এর জায়গায় ঘাস খায় গ-ার। উগান্ডায় এখন কেবল এখানেই রয়েছে গন্ডার। নিজেদের প্রাকৃতিক আবাসে বসবাস করছে এসব বন্যপ্রাণী। ২০০৬ সালে সদ্য প্রতিষ্ঠিত চ্যারিটি সংস্থা ‘রাইনো ফান্ড উগান্ডা’ জিওয়া র্যাঞ্চের মালিক ক্যাপ্টেন জোসেফ চার্লস রয়ের কাছে গন্ডার ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। তারা তার খামারটিকে গণ্ডারদের জন্য আদর্শ বাসস্থান হিসেবে চিহ্নিত করে এবং গরুর পাল সরিয়ে সেখানে গণ্ডার আনার প্রস্তাব দেয়। এক দশকেরও বেশি সময় পর, এই বিশাল প্রাণীগুলোকে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাণীপ্রেমী ও একজন সংরক্ষণবাদী হিসেবে পরিচিত রয় এই প্রস্তাবে রাজি হন। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে কেনিয়া থেকে চারটি এবং ফ্লোরিডার ডিজনি অ্যানিমোল কিংডম থেকে দুটি দক্ষিণ সাদা গণ্ডার এই খামারে আনা হয়। সে সময় উত্তরের সাদা গণ্ডারের সংখ্যা এতই কম ছিল (বর্তমানে মাত্র দুটি মাদি বেঁচে আছে), যে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এই কার্যক্রমে জড়িতরা জানত যে, জলাভূমি, সাভানা এবং বনাঞ্চলের মিশ্রণ থাকা এই খামারটি গণ্ডারদের জন্য আদর্শ বাসস্থান। তবে তাদের এই ধরনের সাফল্য আশা ছিল না। বর্তমানে জিওয়া খামারে গণ্ডারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ, যার মধ্যে গত তিন মাসেই জন্ম নিয়েছে পাঁচটি। একই সময়ে এন্টেবে চিড়িয়াখানায় দুটি গণ্ডার আনা হলেও তাদের কোনো বাচ্চা হয়নি। খামারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা এই সাফল্যের মূল কারণ বলে ধরা হয়। সেখানে কর্তব্যরত রেঞ্জাররা প্রতিটি ‘গন্ডার পরিবারকে’ সার্বক্ষণিক নজরে রাখেন। গ-ারগুলো যাতে চোরাচালানের শিকার না হয়, সে জন্য রয়েছে নিিদ্র সীমানা পাহারার ব্যবস্থা।
জিওয়া র্যাঞ্চে যেসব ব্যক্তি রেঞ্জার হিসেবে কাজ করেন, তাদের একজন শরিফ নসুবাগা। তিনি খামারটিতে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। শরিফ নসুবাগা বলেন, প্রতি ঘণ্টায় তারা গ-ারদের কার্যকলাপ এবং তাদের আচরণ, যেমন খাওয়া, মলমূত্র ত্যাগ, বিশ্রাম নেওয়া রেকর্ড করেন। তিনি বলেন, এই কাজ করতে গিয়ে তাদের সঙ্গে গ-ারদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কোন গ-ারের আচরণ কেমন, কোনটি শান্ত আর কোনটি আক্রমণাত্মক, তা তারা জেনে গেছেন।
