ছিয়াত্তরে শাবানা আজমি

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৮ পিএম

ভারতের সমান্তরাল চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী নাম শাবানা আজমি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সমাজকল্যাণমূলক কাজে অগ্রণী। যারা গ্ল্যামারাস নায়িকা, তাদের বরাবরই স্বপ্ন থাকে মেগা বাণিজ্যিক সিনেমার নায়িকা হওয়ার। কিন্তু শাবানা আজমির ভরপুর গ্ল্যামার থাকা সত্ত্বেও নিজেকে নিয়ে গেছেন এমন এক অনন্য উচ্চতায়, সে কাজগুলো মেগা বাণিজ্যিক না হতে পারে, কিন্তু তিনি তার কাজের মধ্য দিয়েই আলোচনায় থাকবেন মৃত্যুর পরও যুগ যুগ। 

যেসব গ্ল্যামারাস নায়িকা জীবদ্দশাতেই এক সময় আলোচনার বাইরে চলে যান সেখানে শাবানা আজমি জীবদ্দশাতেই ঠাঁই পেয়ে গেছেন কিংবদন্তির তালিকাতে। এ কারণে বলিউডে এত সুন্দরীর ভিড়েও এই অনিন্দ্য সুন্দর মুখশ্রীর শাবানা আজ বরাবরই নিজস্ব দীপ্তিতে উজ্জ্বল। ‘আর্থ’ ছবির পূজা ইন্দর কিংবা ‘পার’-এর রামা, কোনো চরিত্রেই শাবানা আজমির বিকল্প কাউকে ভাবা যায় না। বাণিজ্যিক ও শিল্প- দুই ধারার ছবিতেই তিনি সফল। 

নন্দিত এই অভিনেত্রী আজ স্পর্শ জীবনের ছিয়াত্তরতম বসন্ত। পঁচাত্তরে পা রাখলেন তিনি। এই অভিনেত্রী শতবর্ষের বলিউডের আকাশে অরুন্ধতীর মতোই স্থির। শাবানা আজমির জন্ম ১৯৫০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। শাবানা আজমি পাঁচবার জয় করেছেন সেরা অভিনেত্রীর ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চারবার সেরা অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার। ২০০৬ সালে ফিল্মফেয়ার আসরে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন আটবার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছেন অনেকবার। ১৯৮৮ সালে পেয়েছেন পদ্মশ্রী। 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন মহাত্মা গান্ধী পুরস্কার ও রাজীব গান্ধী পুরস্কার। শাবানা আজমি বর্তমান ৭৫ বছর বয়সেও তার অভিনয় ক্যারিয়ারে যেমন ব্যস্ত তেমনি সমাজসেবামূলক কাজেও নিবেদিত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কাজে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে প্রচার কাজের সঙ্গে যুক্ত। শিশু অধিকার রক্ষারও একজন কর্মী তিনি। এইচআইভি এইডস বিষয়ে সচেতনতামূলক কাজে তিনি যুক্ত। ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস তাকে রাজ্যসভার সদস্য পদ দেয়। 

প্রসঙ্গত, শাবানা আজমি বলিউডের বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার, গীতিকার এবং কবি জাভেদ আখতারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। স্ত্রী হানি ইরানি ও দুই সন্তান ফারহান আখতার ও জোয়া আখতার জীবনে থাকাকালীনই শাবানা আজমিকে ১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন জাভেদ। সম্প্রতি ‘দ্য ইনভিন্সিবলস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাবানা জানান, হানি ইরানি তাদের বিষয়ে জানা সত্ত্বেও কখনো সন্তানদের বাবার থেকে দূরে রাখেননি। বরং পরিস্থিতির সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন। সেই সময় হানির মনে শাবানার জন্য তিক্ততা থাকলেও বর্তমানে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত