সিট বরাদ্দে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড সিন্ডিকেট’!

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৪ এএম

রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর নয়। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড সিট ব্যবসা’ চলমান রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, গোপনে প্রভাবশালী মহলের তদবিরে পরিচিত শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অথচ বারবার আবেদন ও ভাইভা দিয়েও অনেক শিক্ষার্থী সিট পাচ্ছে না।

জানা গেছে, গত জুলাইয়ে সীমিতসংখ্যক সিটের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে ছাত্রাবাস কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু ২১ আগস্ট প্রকাশিত তালিকায় অনার্স শিক্ষার্থীদের ইন্টারমিডিয়েট ভবনে সিট দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীরা ওই রাতেই প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভে নামে। চাপের মুখে কর্র্তৃপক্ষ সেদিন রাতেই সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া বাতিল করে। তখন থেকে ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত রয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিট বরাদ্দ স্থগিত ঘোষণার আড়ালে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা গোপনে একের পর এক শিক্ষার্থীকে সিট দিচ্ছেন। কোনো নোটিস ছাড়াই ইতিমধ্যে ৮ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বিনা জামানতে ছাত্রাবাসে থাকছেন।

সূত্র মতে, মুসলিম ছাত্রাবাসের ই-ব্লকে (বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ ভবন) চার থেকে পাঁচজন, সি-ব্লকে (বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভবন) এক থেকে দুজন এবং এ-ব্লকে (বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ভবন) একজন শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন। এমনকি এ-ব্লকে একজন শিক্ষার্থী বিনা জামানতে থাকছেন বলেও জানা গেছে।

কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী বলেন, ‘ছাত্রাবাসে ওঠার জন্য একাধিকবার আবেদন করেছি। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অজানা কারণে সিট পাইনি, বরং প্রশাসন অযোগ্যদের সিট দিয়েছে। প্রকাশ্যে সিট বরাদ্দ স্থগিত থাকলেও গোপনে কিছু শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বৈষম্যমূলক।’

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াজ উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই সিট বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে আমি শিক্ষকের কাছে একাধিকবার সিটের জন্য গিয়েছি, কিন্তু তিনি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। সুপারিশের মাধ্যমে অন্যদের সিট দেওয়ার বিষয়টি জানার পর শিক্ষকদের অবহিত করলেও তারা তা অস্বীকার করেন। তবে আমি যখন সিটের জন্য অফিসে কথা বলতে গিয়েছিলাম, তখন সুপারিশে সিট বরাদ্দ ও আবেদন গ্রহণের বিষয়টি দেখেছি।’

ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রুবাইয়াত-ই-আফরোজ বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আমরা নোটিস ছাড়াও বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী তুলতে পারি। আমার জানামতে, পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী উঠেছে, যার মধ্যে দুজনকে আমি নিজে বিশেষ বিবেচনায় তুলেছি। এর বাইরে আর কতজন উঠেছে, তা আমার জানা নেই।’

ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ড. শাহ মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘বর্তমানে সিট বরাদ্দ স্থগিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন শিক্ষার্থী ওঠার কথা নয়। কেউ গোপনে উঠে থাকলে তা আমার জানা নেই।’

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী বলেন, ‘এটা তো হওয়ার কথা নয়। হোস্টেল সুপার সিট বরাদ্দ স্থগিত করেছে। এটি অস্বস্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের কমিটি বা সুপারদের ভুল। আমি উপাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত