দুর্গাপূজায় ৩ দিন সরকারি ছুটির দাবি হিন্দু মহাজোটের

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৭ এএম

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি ৩ দিন (অষ্টমী, নবমী ও দশমী) করাসহ ৪টি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলো হলো, দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি ৩ দিন (অষ্টমী, নবমী ও দশমী) করতে হবে; প্রত্যেকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজা মন্দিরে সরকারি খরচে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থাসহ প্রতিটি মন্দিরে পূজার ১০ দিন আগে থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা; গত বছরের মতো দুর্গাপূজায় সেনাবাহিনীর টহল দেওয়া এবং দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটারিং সেল করা।

আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর। দুর্গাপূজার মূল ৩টি দিনই হলো অষ্টমী, নবমী ও দশমী। এ উপলক্ষে দিনরাত পূজার কাজে ব্যস্ত থেকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সার্থকভাবে দুর্গাপূজা সম্পাদন করতে হয়। দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায় বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার। কারণ ৫ দিনের দুর্গাপূজায় মাত্র ২ দিন সরকারি ছুটি, যার মধ্যে আগে ছিল এক দিন, বর্তমান সরকার এসে সেটা দুদিন করেছে। কিন্তু আমাদের দাবি ছিল ৩ দিন। যার কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই দুর্গাপূজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে পূজার আনন্দ ও ধর্মীয় যজ্ঞ শেষ করতে পারেন না। এমনকি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন না।’

প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার থেকে দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি ৩ দিন (অষ্টমী, নবমী ও দশমী) করা হোক।’

দুর্গাপূজা সাম্প্রদায়িক শক্তির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের এই মুখপাত্র বলেন, ‘ইতিমধ্যে মন্দিরে প্রতিমা বানানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। দুর্গাপূজা ও নির্বাচন এই দুটি বিষয় নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অতীত অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়। কারণ, পূজার আগে ও পরে এবং যে কোনো নির্বাচনের আগে ও পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ও তাদের স্থাপনার ওপর আঘাত নিয়মিতভাবে হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪টি জেলায় দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। আরও পূজার ১০দিন বাকি এ হামলা ও ভাঙচুর আরও বাড়বে বলে আমরা মনে করছি। এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে। তাই এবার পূজাম-প এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থাপনা সাম্প্রদায়িক শক্তির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে এই উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় এখনই ভাবতে শুরু করেছে।’

পূজায় নিরাপত্তার শঙ্কা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ২০২৫ সালের শারদীয়া দুর্গাপূজা নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি। দেশব্যাপী পূজার আগে ও পরে এমনকি পূজা চলাকালে দুর্গা মন্দিরে হামলার আশঙ্কা করছি। কোন জায়গায় হামলা হতে পারে সেই সমস্ত জায়গাসহ সারা দেশে দুর্গাপূজার আগে ও পরে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রত্যেকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজা মন্দিরে ও ম-পে সরকারি খরচে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থাসহ প্রতিটি মন্দিরে পূজার ১০ দিন আগে থেকে পূজা চলাকালে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত তিন বছরের ইতিহাস দেখলেই বোঝা যায় যে, শারদীয়া দুর্গাপূজা নিয়ে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের শঙ্কাবোধ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মন্দির কিংবা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর ধর্মীয় সহিংসতা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের মতো ঘটনা যতটা না বেদনাদায়ক, তার চেয়ে বেশি বেদনাদায়ক এসব ঘটনার ক্ষেত্রে বিচারহীনতা এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা।’

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার দেবনাথ, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জোটের সভাপতি শ্যামল কুমার রায় প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত