দেশের বৃহত্তম যশোরের মণিহার সিনেমা হল ভেঙে ফেলা হবে বলে সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে। কয়েকটি পোর্টালও সংবাদটি প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে কেউ কেউ সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল ইসলাম।
তিনি বলেন, হল ভাঙা হচ্ছে না, বরং সিনেমার অভাবের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিনেমা ব্যবসা এখন ঈদকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। দুই ঈদে শাকিব খানের সিনেমা দিয়ে টুকটাক চালালাম, ব্যবসা করলাম। কিন্তু ঈদের পর গত জুলাই থেকে কোনো সিনেমা নেই। চালানোর মতো সিনেমা না পেয়ে আমরা হল মালিকরা হিমশিম খাচ্ছি। এভাবে ক্ষতি নিয়ে হল খোলা রাখা সম্ভব নয়।
জিয়াউল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা আর চালাতে পারছি না। কর্মচারীদের বেতন বাকি পড়েছে। বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছি না। হল খোলা রাখলে একজন দর্শক থাকলেও যে বিল আসে, এক হাজার দর্শক থাকলেও একই বিল দিতে হয়। তাই আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এখন আমাদের হল বন্ধ রাখতে হবে।
মণিহার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নতুন ভালো সিনেমা পেলে হল আবার চালু করার কথা ভাবা হবে। জিয়াউল ইসলাম বলেন, ভারতীয় সিনেমা আমদানি বা ভালো কোনো সিনেমার আশ্বাস না পেলে এই সিনেমা হল চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই।
১৯৮৩ সালে সোহেল রানা-সুচরিতা অভিনীত ও দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘জনি’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করে মণিহার সিনেমা হল। এতে আসন সংখ্যা ১ হাজার ২০০। গত বছর হলের পাশেই নির্মাণ করা হয় ৬৬ আসনের মণিহার মাল্টিপ্লেক্স।
