'এটা ইলেকশন না সিলেকশন হয়ে যাচ্ছে' অভিযোগ তামিমের

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে সম্ভাব্য পরিচালক পদপ্রার্থী তামিম ইকবাল। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক দাবি করেছেন, বিসিবি নির্বাচনে নির্বাচনে সরকারী হস্তক্ষেপ বেড়ে গেছে।   

তামিম ইকবাল বলেন, 'আমাদের স্পোর্টস অ্যাডভাইজারের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তাকে আমি একটি কথাই বলেছিলাম—ভাইয়া, আমি আপনার কাছ থেকে কিছুই চাই না; আমি শুধু একটি বিষয়ই চাই, আর তা হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। কিন্তু তারপর থেকে আমরা যা দেখতে শুরু করেছি, কিংবা জেলা ও বিভাগে যা ঘটছে, এমনকি ক্লাব পর্যায়েও যা চলছে—সেগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে না।'

আমিনুল ইসলাম বুলবুল কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তার বিসিবি নির্বাচন নিয়ে কোনো ধারণাই নেই। তবে তিনিই আবার কাউন্সিলর তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন। এটি তার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেন তামিম।

তামিম অভিযোগ করে বলেন, '১৬ তারিখে বা তার আগে তাদের জানানো হলো যে (কাউন্সিলর নির্বাচনে) সময়সীমা আমরা বাড়াবো। অর্থাৎ ১৭ তারিখ থেকে তা ১৯ তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। দ্বিতীয়বার আবার ১৯ তারিখ থেকে সেটিকে ২২ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হলো।প্রথমবার যখন সময়সীমা বাড়ানো হয়, তখন তাদের ডিরেক্টর গ্রুপে বিষয়টি প্রস্তাব আকারে দেওয়া হলে তিন-চারজন ডিরেক্টর এতে সম্মতি জানান। ফলে বিষয়টি ১৯ তারিখ পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন সময়সীমা বাড়ানো হলো, তখন বিসিবি প্রেসিডেন্ট ছাড়া আর কেউ—হ্যাঁ বা না—কোনো মতামতই দেননি। তিনি নিজের ইচ্ছাতেই সময়সীমা বাড়িয়ে দিলেন।'

নির্বাচন কমিশন গঠনের পর সবধরনের যোগাযোগের দায়িত্ব কমিশনের ওপর বর্তায়। অথচ এরপরও বিসিবি সভাপতি নিজে চিঠিতে স্বাক্ষর করছেন, যা নিয়মের পরিপন্থী বলে মনে করেন তামিম। এ ছাড়া সরকারের ক্যাবিনেট সচিবের দপ্তর এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকেও চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এই নির্বাচনকে সিলেকশন আখ্যা দিয়েছেন তামিম।

তিনি বলেন, 'এখন মজার বিষয় হলো, আপনারা কিছুদিন আগেই দেখেছেন—যাকে ইচ্ছা অ্যাডহক কমিটি থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে, আবার যাকে ইচ্ছা সেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যদি এভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে চান, তবে এটি তো ইলেকশন হলো না; বরং এটি সিলেকশন হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত