‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি- ই থ্রি। গত মাসে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের জন্য যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি ৩০ দিনের এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এর মধ্যেই ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করা হবে কি না, তা নিয়ে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ৯টি দেশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়। উদ্ভূত পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যেকোনো ‘পুনর্বহাল’ করা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার প্রস্তুতি আছে তেহরানের। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, স্ন্যাপব্যাক’ দিয়ে তারা পথ বন্ধ করতে চায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মস্তিষ্ক ও চিন্তাধারা অন্য পথ খুলে দেয় বা নতুন পথ তৈরি করে। তারা আমাদের থামাতে পারবে না। তারা নাতাঞ্জ বা ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। কিন্তু তারা এটা বোঝে না যে নাতাঞ্জ মানুষই তৈরি করেছে। মানুষই আবার সেটি নতুন করে গড়ে তুলবে। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করে দক্ষিণ কোরিয়া। চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও আলজেরিয়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও গায়ানা নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে ভোটদান থেকে বিরত থাকে। ‘¯œ্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরুর কারণ হিসেবে ‘ই থ্রি’ জানিয়েছিল, ২০১৫ সালের চুক্তির শর্ত মানছে না। দেশটিকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই ছিল সেই চুক্তির উদ্দেশ্য। তবে ইরান বরাবর বলে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, আমরা অতিরিক্ত দাবির মুখে কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যদি তেহরান ও ইউরোপের সমঝোতা না হয়, তাহলে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আবারও কার্যকর হবে। শনিবার আলাদা বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সতর্ক করে বলেছে, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হলে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত হয়ে যাবে।
