ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতে নিয়ে সাবেক বার্সা সতীর্থ আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। ২৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো মনোনীত হয়েই তিনি জিতে নিয়েছেন ফুটবলের এই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। তার আবেগঘন বক্তৃতায় উঠে এসেছে আরও অনেক নাম।
ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদিনহোর হাত থেকে ট্রফি নিয়ে মাইক্রোফোনে দাঁড়িয়ে দেম্বেলে বলেন, ‘আমার অসাধারণ অনুভূতি হচ্ছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পিএসজির হয়ে আমার যা অর্জন হয়েছে, সেটা কল্পনারও বাইরে। সত্যি বলতে আমি একটু নার্ভাস। আমি এই পুরস্কার পেলাম সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তির হাত থেকে, এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না!’
সাবেক ক্লাব এবং মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যেসব ক্লাবে খেলেছি তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। স্টাদ রেঁ, আমার প্রথম ক্লাব। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, এরপর আমার স্বপ্নের ক্লাব বার্সেলোনা। আমি লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলেছি, তাকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। তার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। মেসির সঙ্গে খেলতে পারা, তার কাছ থেকে শেখা— এটা ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা।’
নিজের বর্তমান ক্লাব পিএসজিকে নিয়ে দেম্বেলে বলেন, ‘আমি পিএসজিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা ২০২৩ সালে আমাকে দলে ভিড়িয়েছিল। এটা এক অসাধারণ পরিবার। প্রেসিডেন্ট নাসের (আল-খেলাইফি) আমার কাছে বাবার মতো। একইভাবে কোচ লুইস এনরিকে, তিনিও আমার কাছে বাবার মতো। সব স্টাফ, সতীর্থরা— সবাই আমাকে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। আমরা একসঙ্গে প্রায় সবকিছু জিতেছি। সুখ-দুঃখ দুই সময়েই তোমরা পাশে ছিলে। এই ব্যক্তিগত পুরস্কার আসলে পুরো দলের সম্মিলিত সাফল্যের প্রতীক।’
ফরাসি জাতীয় দলের কোচকেও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি দেম্বেলে, ‘আমি ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ দিদিয়ের দেশ্যমকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আশা করি আমরা বিশ্বকাপও জিততে পারব! আমি আমার শহর ইউরকেও ধন্যবাদ জানাই। যখনই সুযোগ পাই ফিরে যাই সেখানে। আমার মহল্লার মানুষরাই আমাকে এই জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।’
কান্নাভেজা চোখে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’আর মা-কে উৎসর্গ করেন দেম্বেলে, ‘আমার মা-কে ধন্যবাদ জানাই। তুমি সবসময় আমার পাশে থেকেছো, মা। আমার পরিবারকে ধন্যবাদ। আমরা একসঙ্গে অনেক কিছু পার করেছি। আমরা সবসময় একসঙ্গে থাকব।’ এ সময় দেম্বেলের চোখ ভিজে যায়, গ্যালারিতে কাঁদতে দেখা যায় তার বাবাকেও। পরে তার মা মঞ্চে উঠে আসেন ছেলের সঙ্গে উদযাপন ভাগ করে নিতে।
২০১৭ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর থেকে মেসির সঙ্গে চার মৌসুম কাটান দেম্বেলে। সেই সময়ের স্মৃতি এখনও তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। গত আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমার মেসির সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক ছিল। আমার লকার ছিল তার ঠিক পাশেই। তিনি আমাকে অনেক পরামর্শ দিতেন। তিনি সবসময় বুঝতে পারতেন আমি কী চাই। তিনি আমাকে বলেছিলেন— যদি আমি স্বপ্ন পূরণ করতে চাই, তবে সিরিয়াস হতে হবে। এরপর থেকে আমি তাকে পর্যবেক্ষণ করতাম এবং মাঠে তার কাছ থেকে শিখতাম।’
ব্যালন ডি’অর জয়ী দেম্বেলেকে শুভেচ্ছা জানালেন মেসি
শচীনের ছেলে অর্জুনের বলে আউট দ্রাবিড়ের ছেলে সামিত
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলা হচ্ছে না পান্তর