কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শুধু বিএনপির নেতৃত্বই দেবেন না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন সব মানুষের নেতা তারেক রহমান। আমি কয়েক দিন আগেও বলেছি, আপনারা দেখতে পাবেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারেক রহমান এসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দেবেন।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ডা. জাহিদ এ কথা বলেন। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ফ্যাব) কেন্দ্রীয় সংসদ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
ডা. জাহিদ দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে বলেন, ‘বিএনপি এত বড় দল যে, এর মনোনয়নপ্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা যত সিট আছে তার চেয়ে দশ গুণ। কাজেই কে প্রার্থী হবেন, কে হবেন না, সেটির জন্য আমাদের স্থানীয় ও জেলার নেতারা আছেন, দলের পক্ষ থেকে জরিপ এবং সর্বোপরি জনগণের ভালোবাসায় যেসব মানুষ নিজ নিজ এলাকায় উদ্ভাসিত, তাদেরই আপনারা দেখতে পাবেন। কিন্তু ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়া এবং পত্রপত্রিকায় যেসব স্পেকুলেটেড নিউজ হয়েছে, এ ব্যাপারে আমাদের দলের পক্ষ থেকে গত পরশু দলের মুখপাত্র রিজভী আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দল কাউকে গ্রিন সিগন্যাল বা রেড সিগন্যাল দেয়নি। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেহেতু এটি একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম, সেটি আমাদের অব্যাহত।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি জনগণের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার ছিল, আছে, থাকবে। আমরা সবসময় বলতাম স্বৈরাচারের দোসর কারা ছিল। ৮৬-তেও দেখেছেন, এখনো দেখছেন। কাজেই আপনাদের সজাগ থাকতে বলব। দেশের মানুষ দেখছে, সত্যিকার অর্থে স্বৈরাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কাদের রয়েছে।’
এ সময় বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘অনেকে যারা বলেন, ফ্যাসিস্টদের প্রত্যাবর্তন ঘটানোর জন্য চিন্তা করছেন, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য চিন্তা করছেন, তারা কী ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নেননি? আমাদের দেশে ইসলামপন্থি একটি রাজনৈতিক দল বরাবরই আমার মনে হয়েছে আওয়ামী লীগকে সন্তুষ্ট করার জন্য কাজ করছে। তারা এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে। তারা (জামায়াতে ইসলামী) নিষিদ্ধ দল ছিল। কিন্তু এমন কোনো মিটিং তাদের নেই, কর্মসূচি নেই যে, তারা স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করেননি এবং তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেননি। এরপর আমরা দেখেছি, প্রতিটি ঘটনায় তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে, আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করেছেন।’
উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘৮৬ সালে তারা আওয়ামী লীগ নির্বাচনে গেছে। মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এক আর কাজ করেছে আরেক। ঠিক একইভাবে তারাও (জামায়াতে ইসলামী) করেছে। এরপর আমরা দেখেছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন করল, সেই আন্দোলনেও তারা জ¦ালাও-পোড়াও করল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র টিটোকে শিবির (ইসলামী ছাত্রশিবির) গুলি করে হত্যা করেছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যেতে চাননি। তাদেরই নেতারা বাধ্য করেছিলেন, না হলে তারা স্বতন্ত্রভাবে করবেন। এখন আবার তারা স্বরূপে বেরিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চাচ্ছেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাচ্ছেন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাকে ওই সময় মেট্রোরেল স্টেশনের পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছিল, নজরুল ইসলাম খানসহ আরও অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অথচ এখন আমরা প্রমাণ পাচ্ছি এসব ঘটনার সব নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা নিজেই। তিনি (শেখ হাসিনা) এমন এক সর্বনাশা খেলায় মেতেছিলেন, যার ফলে দেশ, জাতি এবং মানুষের জানমাল বিপন্ন হয়েছিল ওই সময়।’
রিজভী বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার কর্মকা-ে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া তার নিজ এলাকায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ নিয়েছেন। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এটি একধরনের বৈষম্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ। সরকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের এলাকা উন্নয়নের নামে ভবিষ্যতে এমপি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। এটি দুঃখজনক এবং সরকারি শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
