জাপানে ক্যাম্প হবে না ঋতুদের

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৬ পিএম

নারী ফুটবলে জাপান পরাশক্তিদের একটি। এশিয়ায় তাদের অবস্থান সেরাদের কাতারে। দল হিসেবে যেমন তারা সেরা, সুযোগ সুবিধার দিক থেকেও। তাই জাপানের উন্নত সুযোগ-সুবিধায় এশিয়ান কাপে প্রথম সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশকে কিছুদিন অনুশীলন করাতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তবে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে যে সময়টায় বাংলাদেশকে আতিথ্য দিতে চাইছে, ২০ থেকে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের ঘরের মাঠে খেলার কথা ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট। তাই জাপান যাওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

চেষ্টা করেও ঋতুপর্ণাদের জন্য উন্নত অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হতে হচ্ছে বাফুফেকে। যা মুখ ফুটে নিজেই স্বীকার করেছেন বাফুফের নারী ফুটবল কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার।

মোট ৪৩ জন ফুটবলারকে মার্চের এশিয়ান কাপ ও এপ্রিলের অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। ১০ জন এ মুহূর্তে ভুটানে লিগ খেলা নিয়ে ব্যস্ত। বাকীদের মধ্য থেকে ২৯ জনকে নিয়ে শনিবার চট্টগ্রাম চলে গেছেন বাটলার। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইজিজেডের উন্নত সুযোগ-সুবিধায় চলবে ২০ দিনের নিবিড় অনুশীলন।

শনিবার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মাহফুজা আক্তার কথা বলেছেন মেয়েদের প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিয়ে। জাপানের প্রশিক্ষণের সুযোগ না পাওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে নিজেদের অসহায়ত্বই প্রকাশ করলেন তিনি, 'চেষ্টা করছি, কিন্তু না পেলে তো কিছু করার নেই। এশিয়া কাপে যারা জানতো কোয়ালিফাই করবে তারা আগে থেকেই এক বছরের সব পরিকল্পনা প্রস্তুত করে এগিয়েছে। কিন্তু আমরা কোয়ালিফাই করব সেটা জানতাম না। এখন আমাদের যে কারনে সব কিছুতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এটা মেনে নিতেই হবে। জীবনটাই এমন আমরা যেভাবে চাই সেভাবে হয় না। একরকম প্লানিং করি, একরকম স্বপ্ন দেখি, কিন্তু হয় অন্যরকম। তার মধ্যে যেটুকু হচ্ছে, আমি মনে করি রাইট ট্রাকেই আছি।'

তারপরও মেয়েদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন তিনি, 'আমরা মেয়েদের জন্য ২০ দিনের একটা এক্সক্লুসিভ ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছি। চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেডে এটা হবে। আজকে থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ১৭ তারিখ দল ঢাকায় ফিরবে। এরপর দল যাবে থাইল্যান্ডে ২৪ ও ২৭ অক্টোবর দুটি ম্যাচ খেলতে।'

থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বাফুফে। এর মধ্যে একটি দল নিশ্চিত হয়েছে। আজারবাইজান সম্মতি দিয়েছে। তৃতীয় দলটি কারা হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে আবার নেপালে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম সাফ ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে। যেখানে খেলার কথা রয়েছে সর্বশেষ নারী লিগের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টিং ক্লাবের। জাতীয় দলের তারকারাই খেলেছিল নাসরিনের হয়ে। জাতীয় দলের ক্যাম্প চলায় সে সময় নাসরিনকে খেলোয়াড় ছাড় নিয়ে আছে প্রশ্ন। মাহফুজা আক্তার অবশ্য আশাবাদী খেলোয়াড় ছাড়ার ব্যাপারে। নাসরিনে সাবিনা খাতুনসহ পাঁচ-ছয়জন সিনিয়রও আছেন, যাদের এশিয়ান কাপের ক্যাম্পে রাখেননি বাটলার। তাদের ভবিষ্যত কোচের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন মাহফুজা, 'ওই ছয়জনকে নিয়ে আমি কথা বলব না। এটা কোচের পার্ট, সেই কথা বলবে। পিটার সিদ্ধান্ত দেবে সে কি করবে। তবে নাসরিনে ৬জন তো খেলবেই। এর বাইরে যে ৮জন বা ১০জন আছে ওরা যাতে খেলে, আমি পিটারেক বলব। আমি চাই নেপালে গিয়ে খেললে দেশের জন্য ভাল হবে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত