দেশ রূপান্তর : দেশে বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল
আউয়াল : ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে রোগীর এত চাপ যে, বসার জায়গা নেই। আমাদের যে রোগী আছে তাদের আমরা চিকিৎসা দিয়ে শেষ করতে পারছি না। ৫ বছর আগে এলে এতটা রোগীর চাপ ছিল না। এর আরও একটা কারণ হচ্ছে দেশের সব জায়গায় যে এর চিকিৎসা হবে সেটারও সুযোগ নেই, কারণ এটা বিশেষায়িত চিকিৎসা। এর জন্য প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্সের ঘাটতি রয়েছে। তবে হার্ট ফাউন্ডেশনে সাড়ে ৩০০ ডাক্তার রয়েছে ৬০০ বেডের বিপরীতে।
দেশ রূপান্তর : হৃদরোগে আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ার কারণ কী?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল
আউয়াল : প্রথমেই একটা পরিসংখ্যান দিই। হৃদরোগ হলো পৃথিবীর এক নম্বর ঘাতক। প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ২ কোটি মানুষ হৃদরোগের কারণে মারা যান। বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ লোক এই রোগে মারা যান। এই রোগে আক্রান্তের প্রধান কয়েকটি কারণ রয়েছে।
এর মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ধূমপান,কায়িক পরিশ্রম না করা, পরিবেশ দূষণ, উচ্চ রক্তচাপ এবং সুষম খাবারের অভাব।
বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনটা হৃদরোগের একটা বড় কারণ। ৫০ বছর আগেও আমরা যারা কায়িক পরিশ্রম করতাম, চাষাবাদ করতাম, বিভিন্নভাবেই এই পরিশ্রমটা হতো। এখন আমরা হাঁটা বন্ধ করে দিয়েছি। গ্রামের লোকজনও এখন হাঁটে না। বাড়ি থেকে রাস্তায় গিয়েই ভ্যান, অটোতে উঠে বাজারে যাচ্ছেন, আবার আসছেন। কারণ প্রত্যেকের বাড়ি পর্যন্ত পাকা রাস্তা।
এক সময় আমাদের প্রধান খাবার বলতে ছিল ভাত, মাছ, ডাল, শাকসবজি। হাটের দিন ছাড়া মাংস পাওয়া যেত না। এখন বিরিয়ানি খাচ্ছি, সকাল বেলায় পরোটা পছন্দ করছি। অস্বাস্থ্যকর খাবার, কায়িক পরিশ্রম না করা এবং ধূমপান মানুষের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এর সঙ্গে রয়েছে পরিবেশের দুরবস্থা। শুধু ঢাকাতেই নয়, সারাদেশের মানুষই পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে রাখি। যে কারণে সারাদেশটা দূষিত হচ্ছে, যেটা একটা বড় কারণ।
আবার আমাদের যে অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো তার কারণে আমাদের প্রচন্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এখন আমাদের সন্তানরা বার্গার খাচ্ছে। এই যে পরিবর্তন সেটা আমাদের ওপর প্রভাব ফেলছে। এটা শুধু আমাদের সমস্যা না, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি স্থুলকায় মানুষের সংখ্যা বেশি কারণ তারা বার্গার জাতীয় খাবার সবচেয়ে বেশি পরিমাণে খায়। সেখানেও হৃদরোগে অনেকে আক্রান্ত হন।
কিন্তু এখানে একটা পার্থক্য আছে। সেটা হলো আমেরিকার মতো দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুহার কম, যেটা আমাদের দেশে বেশি। পৃথিবীতে হৃদরোগের কারণে যত লোক মারা যান তার ৮০ শতাংশই মারা যান উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। এই দেশগুলোতেই আবার সবেচেয়ে বেশি মানুষ বসবাস করেন। এর পেছনে বড় কারণ হলো অসচেতনতা।
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসা খরচ কি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে কিনা?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল : হার্টের চিকিৎসা নিঃসন্দেহে ব্যয়বহুল। তবে তুলনামূলকভাবে এখনো অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের চিকিৎসা সস্তা। কিন্তু দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির কথা চিন্তা করলে এটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এ জন্য সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ ইচ্ছামতো টাকা নিতে না পারে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে। আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে দেই বলেই অন্য প্রতিষ্ঠান যা খুশি টাকা নিতে পারে না। অনেক বেসরকারি হাসপাতালও আছে যারা হার্ট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে তুলনা করে ঠিক করে তারা কত টাকা বেশি নিতে পারবে। তবে এটাও ঠিক, আগে তো এত এত প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না। এখন তো সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে এরও একটা কষ্ট আছে, প্রচুর ব্যয়বহুল। এটা শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশে^ই হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে, তাদের প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো দরকার।
দেশ রূপান্তর : সারাদেশে যথেষ্ট অবকাঠামোগত ব্যবস্থা না থাকায় হৃদরোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেই আমাদের অনেক দেরি হয়ে যায়। এই অবস্থার উত্তরণে কী করা উচিত?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল : হৃদরোগ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো ‘ডিটেকশন’ রোগটা ধরতে পারা। এটাতে আমরা খুবই দুর্বল। অনেক সময় রোগ ধরতে ধরতেই রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। হৃদরোগ হলে সেটা কি গ্রামদেশে ধরা পড়া সম্ভব? সম্ভব না। এক নম্বর হলো উপযুক্ত ডাক্তার নেই। একটা উপজেলাতে ১৫ লাখ বা তারও বেশি মানুষ বাস করে। সেখানে ডাক্তারের সংখ্যা ২০-২৫ জনের বেশি না। এই ডাক্তার দিয়ে কীভাবে ১৫-২০ লাখ মানুষের সেবা দেওয়া সম্ভব। এখানে ডাক্তারের সংকট রয়েছে।
দ্বিতীয়ত রোগ নির্ণয়ের জন্য যে প্রযুক্তি বা পরীক্ষাগার দরকার সেটা তো গ্রামেগঞ্জে নেই। এর জন্য ঢাকায় আসতে হয়। কোনো কোনো উপজেলায় ইসিজি মেশিন থাকলেও ইকো করার সুযোগ নেই।
হৃদরোগের বড় একটা কারণ উচ্চ রক্তচাপ। হার্টের অ্যাটাকের একটা বড় কারণ হলো, এই উচ্চ রক্তচাপ। বহু মানুষ আছেন যারা যানেনই না তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। দেখা গেছে, আমাদের কাছে ঘাড় ব্যথা নিয়ে কেউ এলে রক্তচাপ মাপার পর দেখা যাচ্ছে সিরিয়াস পর্যায়ের উচ্চ রক্তচাপ।
একটি হিসাবে বলা হয়, উচ্চ রক্তচাপের ৫০ ভাগ রোগীকে যদি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যায় তাহলে সারা পৃথিবীতে ১৩০ মিলিয়ন বা ১৩ কোটি মানুষের জীবন বেঁচে যায়। এত মানুষের জীবন রক্ষার সুযোগ রয়েছে শুধু এই একটা চিকিৎসার মাধ্যমে।
দেশ রূপান্তর : হৃদরোগ ধরা পরার পরও কি দ্রুত চিকিৎসা করানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আমাদের আছে?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল : যখন রোগটা ধরা পড়ে তখন তার চিকিৎসা লাগবে। এই চিকিৎসাতেও সমস্যা আছে। অনেক সময় এটা দেরি হয়ে যায়। দেশের উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সগুলোতে এনসিডি কর্নার রয়েছে। এটি এমন একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যেখানে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসার এবং অন্যান্য অসংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া হয়। এখানেও তো সেবার পরিমাণ অপ্রতুল, আবার সবাই যায়ও না। এখন যদি সেখানে রোগ ধরা পড়ে তার জন্য তো ওষুধ লাগবে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, সরকার এবং অন্য একটি এনজিও মিলে একটা প্রোগ্রাম চালাচ্ছে। যেখান থেকে কিছু ওষুধ দেওয়া হয় রোগীদের। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের।
সেই প্রোগ্রাম থেকে আমরা প্রথমে উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করি, তাদের চিকিৎসা দিই। ৩৫০টির বেশি উপজেলাতে এই প্রোগ্রামটা চালু রয়েছে। এই চিকিৎসাটা দেওয়া হয় বিনে পয়সায় একই সঙ্গে ওষুধও বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এরপর আমরা এই রোগীগুলোর ধারাবাহিক খোঁজ রাখি। এতে করে দেখা গেছে, গ্রামঞ্চলে উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয়ের হার বেড়ে গেছে এবং আগে যেটা ১৩-১৪ শতাংশ রোগীর উচ্চ রক্তচাপ কন্ট্রোলে ছিল এখন সেটা ৫০ ভাগে উন্নীত হয়েছে।
তবে সামগ্রিকভাবে ঢাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে এখনো হৃদরোগের চিকিৎসা এখনো অপ্রতুল। দেশে জনংসখ্যার তুলনায় সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করলেও সেটা অপ্রতুল। তবে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক পরিবর্তন হলেও সেটা চাহিদার তুলনায় কম।
দেশ রূপান্তর : হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স রয়েছে?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল : না, আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে দক্ষ জনবল নেই। তবে সরকার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে সব বিভাগে বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। অবকাঠামো প্রস্তুত হয়ে গেছে, এখন ম্যানপাওয়ার এবং যন্ত্রপাতি কিনলেই এগুলো শুরু করা যাবে। দেশের কতগুলো প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবল তৈরির ব্যবস্থা করা হবে। সরকার যদি আমাদের কাছেও ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক্স পাঠায় আমরা তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করব। এটা করতে পারলে কিছুটা উন্নতি হবে, তবে এটাও পুরো চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট হবে না।
বাংলাদেশে এখন যত মানুষ চিকিৎসা নেয়, তার ৬০-৭০ শতাংশ মানুষই চিকিৎসা নেয় বেসরকারি হাসপাতালে। ২০-২৫ শতাংশ চিকিৎসা পায় সরকারি হাসপাতাল থেকে। এই অবস্থায় যদি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে সারাদেশে চিকিৎসা কিন্তু নিশ্চিত করা যাবে না।
এক্ষেত্রে অবশ্য সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এর জন্য সরকারের বাজেট বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এখন আমাদের যে হেলথ বাজেট সেটা কিন্তু অপ্রতুল। এই রিজিওনের মধ্যে বাংলাদেশে হেলথ বাজেট সবচেয়ে কম।
আরও একটা বড় সংকট যথাযথ পরিকল্পনার অভাব। আগামী ২০, ৩০ বছর পর আমার কোথায় কেমন জনবল দরকার, সেক্টরের চিত্র কী দাঁড়াবে সেটা আমরা ভাবি না। পরিকল্পনা না থাকায় এক রোগের ডাক্তার হয়তো বেশি হয়ে যাচ্ছে, আবার অন্য রোগের ডাক্তার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রথমে ম্যানপাওয়ার এবং দ্বিতীয়ত অবকাঠামোতে গুরুত্ব দিতে হবে। একটা ছাড়া একটা হবে না। অনেক হাসপাতাল আছে, যন্ত্র আছে কিন্তু চালানোর লোক নেই। এটা শুধু অপচয়ই নয়, এটা বোঝাও। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক আনতে হবে। বিদেশে লোক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাতেও হবে। এর জন্য অনেক টাকার দরকার পড়ে না।
দেশ রূপান্তর : অনেকেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন, এটা কি আমাদের স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার জন্য?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল : বিদেশে যারা যান তাদের অনেকেই আসলে অকারণে যান। কারা যাচ্ছেন, সমাজের নামিদামি লোকগুলো যাচ্ছেন। তাদের বিষয়গুলো খোঁজ নিলে দেখা যাবে তারা হাঁচি-কাশির মতো সাধারণ রোগের জন্যই বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাচ্ছেন। অথচ এ বিষয়গুলো মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করে দেশে চিকিৎসা নেই।
তাই যদি হয়, তাহলে করোনাকালে তো মানুষ বিদেশ যেতে পারেননি, তাদের চিকিৎসা তখন দেশেই হয়েছে। যার নিজস্ব টাকা আছে, তারা যদি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান তাতে আপত্তি করার কিছু নেই। কিন্তু মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জন্য যে একটা ইমেজ তৈরি হচ্ছে সেটা কিন্তু নেতিবাচক। সাধারণ অসুখের জন্য যাচ্ছে এই ধারণাটা পরিবর্তন দরকার। দেশে এখন ৯৯ শতাংশ রোগের চিকিৎসাই আছে। এই যে ১ শতাংশ, এই সমস্যাটা আমাদেরও যেমন আছে, সিঙ্গাপুরেরও আছে, আমেরিকারও আছে, অন্য দেশেরও আছে।
তবে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে সেই পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে, যেখানে আমরা ভীষণভাবে পেছানো। এর প্রধান কারণই আর্থিক সংকট, অব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনায় সমস্যা। আমাদের তো অঢেল টাকা নেই, এই টাকাটার মূল্য অনেক। এই টাকার ব্যবহার যথাযথ না হলে হবে না। আমাদের দেশে যদি প্রতি বছর ফুটপাত বানানো হয়, তাহলে টাকা তো ড্রেনেই থাকবে। হেলথ সেক্টরও তাই, পরিকল্পনা করে সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটা করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : গরিব, দুস্থ রোগীদের জন্য কি এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার কোনো সুযোগ রয়েছে?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল : সরকারি হাসপাতালে আসলে অনেক মানুষ বিনাপয়সায়ও চিকিৎসা নেয়। সরকার সবসময় ওই রিং বা বাল্বটা ফ্রি দিতে পারে না। এক্ষেত্রে সরকার ডোনেশন দিতে পারে, কিছু রোগীকে দিচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কিছু ডোনেশন দেয় হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য। কিছু ক্ষেত্রে সরকার একটা বরাদ্দ রাখে গরিব রোগীদের রিং বা বাল্ব ফ্রি দেওয়ার জন্য।
সরকার ও কিছু প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ৫০০ বা তারও বেশি রোগীর ফ্রি চিকিৎসাসেবা দেয়, যারা প্রকৃত অর্থেই দরিদ্র।
দেশ রূপান্তর : হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে মানুষের কী করা উচিত?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল : সুষম খাবার যেমন ভাত, মাছ, শাকসবজি, দুধ, ডিম, ফলমূল খেতে হবে। দেশি ফলমূল আমাদের জন্য অনেক বেশি উপদেয়। কায়িক পরিশ্রম করুন। সুযোগ থাকলে অফিসে হেঁটে চলে যান আসলে যতটা হাঁটা যায়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এসব রোগ থাকে তাহলে এর চিকিৎসা করতে হবে।
চাপ বেশি থাকলে সেটা কমাতে হবে, ধূমপান বন্ধ করতে হবে। দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবনযাপন করতে হবে। দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা কঠিন, কিন্তু সম্ভব। কখন সম্ভব, যখন আপনার চাহিদা কম থাকবে। আপনার চাওয়াটাকে সীমার মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে সম্ভব। রাত জাগা বন্ধ করতে হবে, টেকনোলজি পরিহার করা মুশকিল, কিন্তু এর ব্যবহারের জন্য কার্যকর উপায় বের করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : বিশ্ব হার্ট দিবস কী উদ্দেশ্যে পালন করা হয়?
অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল : হার্টের অসুখটা মারাত্মক একটা ব্যধি। এটা মানুষকে জানাতে, সচেতন করতে এই দিবসটি উদ্্যাপন করা হয়। কারণ এটা প্রতিরোধযোগ্য একটি অসুখ। আমরা যদি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি তাহলে কিন্তু রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়। এর জন্য সচেতন হতে হবে, জীবনযাপনে, শারীরিক পরিশ্রম বাড়াতে হবে, ধূমপান বন্ধ করতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এর চিকিৎসা নিতে হবে। এখন এই রোগের হাত থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই মানুষকে সচেতন করতে হবে, ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে-টা উদযাপনই করা হয় মানুষকে সচেতন করে তুলতে।
