ভিটা বাঁচাতে গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে সহস্রাধিক নারী পুরুষ

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে হাজার মানুষের অংশ গ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সহস্রাধিক স্থানীয় নারী পুরুষ। 

নয়ানগর-বালুচর গ্রামবাসীর ব্যানারে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী সালেহা বলেন, প্রতি বছর বছর বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের গ্রামের মসজিদসহ বাড়িঘর ভাঙনের মুখোমুখি হয়েছে। আমাদের পাশে কেউ নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ নদীর এই অংশে বালু মহাল চাই না, আপনারা আমাদের সহায়তা করুন।

স্থানীয় যুবক পিন্টু বলেন, বাপ-দাদার ভিটা রক্ষায় যদি আমাদের জীবন দিতে হয় তবু আমরা প্রস্তুত। রাতের আধারে যদি এক সঙ্গে ৩০টা ড্রেজার গ্রামের তীরবর্তী এসে বালু উত্তোলন করে তাহলে আমাদের দুটো ছোট গ্রাম বিলিন হতে এক মাস সময়ও লাগবে না। তাই আন্দোলন করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।

মধ্যবয়সী নারী দিবা বলেন, দুই গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর হুমকির মুখে,আমরা ছেলে মেয়ে নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।

এ বিষয় গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম বলেন, এটি একটা সরকার অনুমোদিত একটি বালুমহাল। আমরা বালু উত্তোলনের জন্য স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছি তবে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন একটি গ্রুপ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয় সার্বিক বিষয় অবগত করেছি। তবে ইজারাদার যদি নিয়ম অমান্য করে নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন তবে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনী, নয়ানগর রমজানবেগ ও চর কালীপুরা মৌজায় মেঘনা নদীর ১২৮ একর এলাকায় একটি বালুমহাল ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। নদীর তীর থেকে ১৫০০ ফুট দূরত্ব মেনে বালু উত্তোলন করার কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ প্রথম থেকেই ইজারাদার প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমানার বাহিরে গিয়ে নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছে। এর কারণে ভাঙনের শঙ্কা করেছে স্থানীয়রা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত