বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘পাহাড়ী অঞ্চলে কিছু কিছু ঘটনা, অশান্তি দেখতে পারছি। হঠাৎ করে এই বিষয়গুলো মানুষকে নানাভাবে ভাবিয়ে তুলছে। এ সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, গার্মেন্টসে অশান্তির লক্ষণ দেখতে পারছি। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত আছে।’
গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত রবিবার তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররাও প্রশাসনে তো আছেই। এরপর যে সব ছেলে, বিশেষ করে ইসলামপন্থি, এক সময়ে ছাত্র জীবনে শিবির করেছেন, তারপরে তারা ক্যাডার সার্ভিসের সুযোগ পেয়েছেন, আবার পরেও যদি তারা শিবিরের (ইসলামী ছাত্র শিবির) ক্যাডার থাকেন। তাদের কিং পয়েন্টে আনা হচ্ছে। তারা যদি ভূমিকা রাখতে চান তাহলে কখনোই আপনি একটি অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন না। যখনই দলীয় মতাদর্শের ক্যাডারদের আপনি বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করবেন তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে দেবে না। আজকে আমরা শুনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব তিনি জামায়াতের লোক।’
তিনি বলেন, ‘আমি তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সাহেবকে বলতে চাই, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে তিনি (মোখলেসুর রহমান) গোড়া থেকেই একজন বিএনপিবিরোধী লোক ছিলেন। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নামে একেবারে কীভাবে গুছিয়ে মিথ্যা মামলা সাজানো যায় সেটা করেছিলেন। তাকে আপনারা দীর্ঘদিন ওই পদে রেখেছিলেন। তিনি বা তারা যে দায়িত্বটি পালন করেছেন যে, খুঁজে খুঁজে যে ছেলেগুলো হয়ত ছাত্রজীবনে ছাত্রদল অথবা বিএনপি পরিবারের ছেলে তাদের দূরে রাখার কাজটি করেছেন, করছেন। তাই তাদের সব গুরুত্বহীন জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে, ওএসডি করে রেখেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় কোনো ধরনের কারচুপি, দলীয়করণের কোনো অভিযোগ ছিল না, বেগম খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯১-৯৬, ২০০১-২০০৬ এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের আমলে। বরং ১৯৭২-৭৫ এর তখন বলত বিসিএসকে (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) বলত বিটিএস (বাংলাদেশ তোফায়েল সার্ভিস)। গত ১৬/১৭ বছর ব্যাপকভাবে দলীয়করণের যে প্রকট দেখেছি, ছাপ দেখেছি তার প্রমাণ হচ্ছে সাংবাদিকরা।’
