যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের একটি গির্জায় এক ব্যক্তির এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৮ জন। পুলিশ জানিয়েছে, গত রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে চার্চ অব জিসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্টসে প্রার্থনার সময় এক বন্দুকধারী গাড়ি চালিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর সে গুলি চালায় এবং গির্জাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ল্যাটার-ডে সেইন্টসের ওপর এ হামলাটি ঘটে গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্ক শহরে। শহরটি ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ১০০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। গত রবিবারের প্রার্থনা সভায় শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্ক টাউনশিপ পুলিশের প্রধান উইলিয়াম রেনি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগুনে ভবনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনো কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, হামলাকারী অ্যাসল্ট-স্টাইল রাইফেল দিয়ে গুলি চালাতে থাকে এবং চার্চের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। রেনি বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং তাকে নিষ্ক্রিয় করে। পুলিশের গুলিতে গির্জার পার্কিং লটে হামলাকারী নিহত হয়।
হামলাকারী শনাক্ত হওয়া থমাস জেকব স্যানফোর্ড মিশিগানের বার্টন এলাকার বাসিন্দা। তার বয়স ৪০ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নথি অনুযায়ী, থমাস জ্যাকব ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সেনা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন ইরাক যুদ্ধেও। কর্র্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ‘টার্গেটেড ভায়োলেন্স’ বা লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা হিসেবে তদন্ত করছে, তবে এখনো হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। হামলার তদন্তের জন্য শতাধিক এফবিআই সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হামলার উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য হামলাকারীর সম্পত্তি তল্লাশি করছে এবং হামলাকারীর মোবাইল ফোনের রেকর্ড পরীক্ষা করছে। মিশিগান স্টেট পুলিশের মুখপাত্র কিম ভেটার সাংবাদিকদের বলেন, কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত বোমা হামলার হুমকির প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে অবহিত হয়েছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে ফেডারেল তদন্তের নেতৃত্বে থাকবে এফবিআই। অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি উপাসনালয়ে এ ধরনের সহিংসতা হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। মিশিগান গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যেকোনো স্থানে, বিশেষ করে উপাসনালয়ে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
