চট্টগ্রামের পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী (পিএবি) সড়কের কালাবিবির দীঘির মোড় থেকে চকরিয়া ঈদমনি পর্যন্ত ৫৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্তকরণের মাধ্যমে মহাসড়কে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক এবং জনপথ বিভাগ (সওজ)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার কমবে। এতে কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৫৮ কিলোমিটারের এই আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে দেড় বছর আগে। ডিপিপিতে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি ১৮ থেকে ৩৪ ফুটে প্রশস্ত করা হবে। গত এপ্রিলে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প যাচাই কমিটির পর্যালোচনা সভা হয়। সভায় প্রকল্পটি নিয়ে সবাই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, কর্ণফুলী টানেলকে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী করতে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমাতে এই আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সওজ। পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী (পিএবি) সড়কের কালাবিবির দীঘির মোড় থেকে পেকুয়া হয়ে চকরিয়া ঈদমনি পর্যন্ত ৫৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার এলাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার কমবে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই বিকল্প সড়ক।
এর আগে, কর্ণফুলী টানেল দিয়ে ঢাকা-কক্সবাজারের দূরত্ব কমাতে শিকলবাহা ওয়াই জংশন থেকে আনোয়ারার কালাবিবির দীঘির মোড় পর্যন্ত ৮ দশমিক ১ কিলোমিটার ছয় লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সওজ। ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার যেতে চট্টগ্রাম শহর হয়ে যেতে হয়, যা অনেক সময় ব্যয় করে। সড়কপথে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৪১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব ২৬৪ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, কক্সবাজার যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। কর্ণফুলী টানেলের কারণে ঢাকার যানবাহনগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট হয়ে বন্দর টোল রোডের সঙ্গে নির্মিত আউটার রিং রোড-পতেঙ্গা দিয়ে কর্ণফুলী টানেল ব্যবহার করলে চট্টগ্রামের দিকে পথ প্রায় ১৫ কিলোমিটার কমবে।
এ ছাড়া কর্ণফুলী টানেল দিয়ে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনীর গোলচত্বর হয়ে পিএবি সড়ক ধরে পেকুয়া-চকরিয়া হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যুক্ত হলে কক্সবাজারের দিকে দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার কমবে।
তবে, কর্ণফুলী টানেল চালুর প্রায় দুই বছর পরও আনোয়ারা প্রান্তে কক্সবাজারমুখী কোনো মহাসড়ক নির্মিত না হওয়ায় টানেলের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে টানেলে যানবাহন চলাচল বাড়ানো, দক্ষিণ চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টানেল সংযোগ সড়ক থেকে কক্সবাজার মূল সড়ক পর্যন্ত ৫৮ কিলোমিটারের এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়। এটি যথাসময়ে অনুমোদন না হওয়ায় টানেলে যানবাহন চলাচল বাড়ানোসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থা এখনো পিছিয়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা আরও বেগবান হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘আশা করছি, জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রকল্পটি যথাসময়ে অনুমোদন পাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমবে। পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহারও বাড়বে।’
