ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছেন লাদাখের আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’ জানিয়েছে- লেহতে চার যুবক নিহত হওয়া নিয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু না করা পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসবে না। একইসঙ্গে ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ গ্রেপ্তার করা সবার নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’র। লেহ অ্যাপেক্স বডি মূলত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ লেহ শহরের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের জোট। তারা আরও জানিয়েছে, চারজনের প্রাণহানির বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে। আর সেই তদন্তের দায়িত্ব দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতিকে। তবে এক বিবৃতিতে ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা সব সময় লেহর অ্যাপেক্স বডি ও কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের সঙ্গে লাদাখ নিয়ে সংলাপের জন্য উন্মুক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। গত বুধবার পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে লাদাখের রাজধানী লেহ শহরে বিক্ষোভে নেমেছিলেন কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী। লেহতে বিজেপির পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। পার্টি অফিসের সামনে থাকা একটি পুলিশের গাড়িতেও আগুন লাগানো হয়। তারপরই মূলত পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে মোট চারজনের মৃত্যু হয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর এই আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সোনাম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে বর্তমানে রাজস্থানের জোধপুর জেলখানায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান সংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে।
লাদাখ পুলিশ প্রধান এস ডি সিংহ জামওয়াল বলেন, আমরা সম্প্রতি একজন পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করেছি, যিনি ওয়াংচুকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল ও তথ্য পাঠাচ্ছিল। ওয়াংচুক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ এর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়াংচুক। গত বৃহস্পতিবার এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কোনো অর্থ আনত না। তবে জাতিসংঘ, সুইস ও ইতালীয় বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক লেনদেন রয়েছে এবং সেসব লেনদেনর সব কর পরিশোধ করেছে তার প্রতিষ্ঠান।
লাদাখের দুটি জেলা। লেহ্ ও কারগিল। ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এ ধূসর পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দারা বৌদ্ধ ও মুসলমান। জনসংখ্যা মাত্র তিন লাখ। পৃথক রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত হওয়ার দাবিতে দুই সম্প্রদায়ই একমত। এ ছাড়া তারা চান স্থানীয় লোকজনের চাকরির জন্য এক পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন ও লোকসভায় আরও একটি আসন বৃদ্ধি। বর্তমানে গোটা লাদাখের জন্য লোকসভায় আসন রয়েছে একটি।
