মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়লেন সাবরি। বৃহস্পতিবার কেরালা কলামণ্ডলম মঞ্চে তার ‘আরাঙ্গেত্তম’ (প্রথম পরিবেশনা) সম্পন্ন করে তিনি শুধু নিজের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করলেন না, বরং প্রায় এক শতাব্দী পুরনো বিখ্যাত এই শিল্পকেন্দ্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে কথাকলি নৃত্য পরিবেশন করে নজির স্থাপন করলেন।
তার অভিষেকের মাধ্যমে কলামণ্ডলমের এক শিক্ষাগুরুর বহুদিনের স্বপ্নও পূরণ হলো। তার স্বপ্ন ছিল এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন মুসলিম মেয়েকে কথাকলি শেখানো।
বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর দিনে সাবরি তার ‘কৃষ্ণ বেশম পুরাপ্পাডু’ পরিবেশন করেন এবং একে তিনি ‘স্মরণীয় অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ণনা করেন।
সাবরি বলেন, ‘আজ আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে খুব আনন্দিত। নাচ আমার ভালোবাসা।’
তার বাবা নিযাম আম্মাস এক ভিডিও বার্তায় জানান, ‘এটা আমাদের পরিবারের জন্য আনন্দের দিন, কারণ আমার মেয়ে সফলভাবে তার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেছে।’
কথাকলি, মোহিনিয়াট্টম ও কুডিয়াট্টম সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে ১৯৩০ সালে কবি বল্লথোল নারায়ণ মেনন ও মুখুন্দরাজ রাজ্যের শাস্ত্রীয় শিল্পকলার প্রধান কেন্দ্র কেরালা কলামণ্ডলম প্রতিষ্ঠা করেন।
সাবরিকে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে জোর দেন কলামণ্ডলমের কিংবদন্তি নৃত্যশিক্ষক কলামণ্ডলম গোপী। প্রথমদিকে তিনিই তাকে নৃত্যের প্রাথমিক মুদ্রা শেখান। পরে তিন বছর ধরে সাবরি কলামণ্ডলম অনিল কুমারের কাছে প্রশিক্ষণ নেন এবং অবশেষে অভিষেক সম্পন্ন করেন।
অনিল কুমার বলেন, ‘সাবরি খুব মনোযোগী ও পরিশ্রমী। তার প্রথম পরিবেশনাতেই দেখা গেছে সে সঠিকভাবে নাচ উপস্থাপন করেছে।’ তবে তিনি আরও জানান, সাবরির এখনও অনেক শেখার বাকি, কারণ এটি ছিল শুধু প্রাথমিক ধাপ।
সাবরি কলামণ্ডলমের তৃতীয় ব্যাচের ছাত্রী। এখানে ২০২১ সাল থেকে মেয়েদের ভর্তি শুরু হয়। তিনি প্রথম মুসলিম শিক্ষার্থী হলেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে এই প্রতিষ্ঠানে এর আগে জন নামে এক খ্রিস্টান কথাকলি শিল্পী পড়াশোনা করেছেন।
এর আগে বিখ্যাত মুসলিম কথাকলি গায়ক হায়দার আলি এই ধারায় অবদান রেখেছেন। তিনি এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। ২০০৬ সালে এক দুর্ঘটনায় মারা যান হায়দার আলি।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী কৃষ্ণবেশম ‘পুরাপ্পাডু’ পরিবেশন করেন সাবরি। ভারি পোশাক ও রঙিন মেকআপে সজ্জিত হয়ে মঞ্চে ওঠেন তিনি।
সাবরি জানান, ‘কোনও দুশ্চিন্তা হয়নি, শুধু পোশাকটা ভারি ছিল। কিন্তু মঞ্চে ওঠার পর সবকিছু স্বাভাবিকভাবে হয়ে গেছে।’
তার বাবা, পেশায় ফটোগ্রাফার, মেয়ের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা ছিল দারুণ।’
