কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে এক প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আলী গোফরান তিতাস উপজেলার কেশবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অভিযুক্ত সাংবাদিক সোহেল মুন্সি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পষ্টবাদী পত্রিকার তিতাস প্রতিনিধি। এছাড়া তিতাস উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) যুগ্ম-আহ্বায়ক।
শুক্রবার রাতে ভাইরাল হওয়া সোয়া ৪মিনিটের ওই কথোপকথনের অডিওতে শোনা যায়, জাসাস নেতা সোহেল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষক আলী গোফরানকে বলেন, আমি সাংবাদিক সোহেল মুন্সি, আপনি কই আছেন।
শিক্ষক বলেন আমি ছুটি নিয়ে কুমিল্লায় আছি।
আপনার নামে অনেক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে এলাকায়, আপনি কখন আসবেন? আইসা দেখা কইরেন, না হয় নিউজ করে দেব, এরপর বুঝবেন।
কি নিউজ করবেন জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ওই যে মেয়েরা আপনার নামে কমপ্লিন দিছে।
এভাবে কথা বলে একজন হেড স্যারের সঙ্গে শিক্ষকের এমন প্রশ্নে সোহেল বলেন, ওই মিয়া আমনে কি মাস্টর, ছাগলের ঘরে ছাগল, তুই আমারে সালাম দিছিলি। আমি যে সালাম দিছিলাম সালাম লইছিলি। বেআক্কল কোনখানের!
শিক্ষক এভাবে কথা বলে, সোহেল মুন্সি- ওই মিয়া আপনের থেকে আমার কথা শিখতে অইবো, ওই কোন স্কুলের মাস্টার আমনে মিয়া, বড় বড় হাইস্কুলের মাস্টাররাও আমগো লগে এইভাবে কথা বলে না। ফাজলামি চ* ান মিয়া। আমি একজন সাংবাদিক পরিচয় দিছি, তারপরও আপনি আমার সঙ্গে তর্ক করেন। যত বড় চাকরি করেন তার চেয়ে বেশি ভাব লন, ওই মিয়া শিক্ষা অফিসাররাও তো আমাদের সঙ্গে এইভাবে কথা বলে না। বদমাশি করার একটা সীমানা রাহিস কই দিলাম।
পুরো কথোপকথনে প্রধান শিক্ষককে সোহেল মুন্সি অশালীন কথাবার্তা বলতে শোনা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নে করা হলে সোহেল মুন্সি গালিগালাজের বিষয়টি এড়ায়ে গিয়ে বলেন, প্রধান শিক্ষকের ব্যাপারে অভিযোগের বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করে দেখা করতে বলেছি।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক আলী গোফরান বলেন, আমি প্রায় ১৩ বছর ওই বিদ্যালয়ে চাকরি করছি। ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে আমার ওপর মব সৃষ্টি করে হামলার চেষ্টা হয়। তিতাসে অনেক সাংবাদিককেই চিনি জানি, তবে সোহেল মুন্সি নামে কোন সাংবাদিককে চিনি না। ওই ব্যক্তি ( সোহেল) ফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। আমি ছুটিতে আছি বলার পরও গালিগালাজ করেন। এ ঘটনার পর আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাসের সদস্য সচিব এস এম মিজান বলেন, তিতাসের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল মুন্সির বিষয়টি আমরা শুনেছি। ওর ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর জাসাসের পরিচয়ে কেউ কোন অপরাধে জড়িত হলে সেই দায় জাসাস নেবে না।
