স্থপতি মেহেদী ইফতেখার
পরিচালক, উইকন প্রপার্টিজ
বিশ্বের উন্নত শহরগুলোতে পাহাড়ে ও নদীর তীরে আধুনিক স্থাপত্যের ভবন নির্মাণ করে যেভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে, আমাদের চট্টগ্রাম শহরেও একইভাবে উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালয়েশিয়ার পেনাং, পাকিস্তানের করাচি ও কেনিয়ার মোম্বাসিসহ বিশ্বের প্রভৃতি শহরের ভূপ্রকৃতি ও আর্থসামাজিক অবস্থা চট্টগ্রামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চট্টগ্রাম শহরের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে আমরা সেসব দেশের মাস্টারপ্ল্যানের ভালো দিকগুলো আমাদের প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। আমাদের এই শহরে পাহাড়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হয় না। কিন্তু তাই বলে কি পাহাড় অক্ষত রয়েছে? আজ নগরীর সবগুলো পাহাড় একে একে সাবার হয়ে যাচ্ছে। পাহাড় কেটে সমতল করে মানুষ যেমন ভবন নির্মাণ করছে, তেমনি পুকুর-জলাশয় ভরাট করেও ভবন নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি পাহাড় ও পুকুর-জলাশয়গুলো ব্যবহারের সঠিক একটা গাইডলাইন দিয়ে ভবন নির্মাণের সুযোগ দিতাম, তাহলে নিশ্চয় এভাবে এগুলো হারিয়ে যেত না।
আমরা এই শহরে রাস্তার পাশের সব ভবনে কেন বহুতল ভবন নির্মাণ বাধ্যবাধকতা করছি না? বিশে^র অনেক শহরে সরকারের বা বিনিয়োগকারীরা প্রধান সড়কের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে রাস্তার পেছনের ভূমিগুলোতে চাপ কম পড়ে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। সেসব এলাকায় পাহাড় ও বহুতল ভবন উভয়ই রয়েছে। আমরা কি তেমনভাবে করতে পারি না? এজন্য আমাদের পরিকল্পনা প্রণয়নে বিশে^র উন্নত শহরগুলোর পরিকল্পনার দিকে নজর দিতে হবে।
