প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগে ফের রাজনৈতিক সংকটে ফ্রান্স

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪০ এএম

পদত্যাগ করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। গতকাল সোমবার এলিসি প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে সকালে এক ঘণ্টার বৈঠকের পর লেকর্নু তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে লেকর্নুর সরকার আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় ক্ষমতায় থাকার নজির তৈরি করল। এ ঘটনায় স্টক ও ইউরোরের আকস্মিক দরপতন ঘটেছে। লেকর্নু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মাত্র ২৭ দিন। তার সরকারের স্থায়িত্ব হয়েছে ১৪ ঘণ্টা।

রাজনৈতিক শত্রু ও মিত্র, উভয়ই নতুন সরকারকে একসঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দেওয়ার পর ঘটনাটি ঘটেছে। রয়টার্স লিখেছে, এই ত্বরিত পদত্যাগ অপ্রত্যাশিত ছিল আর এর ফলে ফ্রান্সে আরেকটি গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলো। প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুর সরকারের পতনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন লেকর্নু। জাতীয় পরিষদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল লেকর্নুর মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিল। মাখোঁর এখন বেছে নিতে হবে সংসদ ভেঙে দেওয়া নাকি পদত্যাগ, বলেছেন চরম ডানপন্থি ন্যাশনাল র‌্যালি দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা সেবাস্তিয়েন শেনু। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মাখোঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী লেকর্নু ছিলেন গত দুবছরের মধ্যে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত আগাম সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ফ্রান্সের রাজনীতি মারাত্মক অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। কারণ সেই নির্বাচনে ঝুলন্ত সংসদ গঠিত হয়। এর ফলে কোনো প্রধানমন্ত্রীই সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিয়ে কোনো বিল পাস করতে পারছেন না।

বেশ কয়েকটি দল আগাম নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট মাখোঁর পদত্যাগের আহ্বানও জানিয়েছে। যদিও মাখোঁ আগেই বলেছেন, ২০২৭ সালে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি পদত্যাগ করবেন না। বায়রুর সরকার সেপ্টেম্বর মাসে পতন হয়, যখন সংসদ তার কঠোর কৃচ্ছ্রনীতি বাজেটকে সমর্থন দিতে অস্বীকার করে। সেই বাজেটে সরকারি ব্যয় ৪৪ বিলিয়ন ইউরো কমানোর প্রস্তাব ছিল। ২০২৪ সালে ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি দাঁড়ায় জিডিপির ৫.৮ শতাংশে, আর জাতীয় ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১১৪ শতাংশে পৌঁছায়। গ্রিস ও ইতালির পরেই এটি ইউরোজোনে তৃতীয় সর্বোচ্চ সরকারি ঋণ এবং প্রতি ফরাসি নাগরিকের গড় ঋণ প্রায় ৫০ হাজার ইউরোর সমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত