বিশ্বব্যাপী ডিমের উৎপাদন ও ভোগ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৫ এএম

ডিম একটি প্রাচীন ও অপরিহার্য খাদ্য উপাদান। এটি সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় বিশ্বব্যাপী মানুষের খাদ্যতালিকায় বিশেষ স্থান দখল করেছে। উচ্চমানের আমিষ, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিডের উৎস হিসেবে ডিমকে একটি পরিপূর্ণ খাবার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বর্তমান বিশ্বে ডিম শুধু পুষ্টির উৎস নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক খাত হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বৈশ্বিক উৎপাদন : জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে বিশ্বে ডিম উৎপাদন ছিল প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ টন, যা ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ২০২০ সালে বিশ্বে মোট উৎপাদিত ডিমের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি পিস। ওই সময়ে বিশে^ ডিমপাড়া মুরগির সংখ্যা ছিল ৭৯০ কোটি। ডিম উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন। বৈশি^ক উৎপাদনের প্রায় ৩৮ শতাংশ উৎপাদন হয় দেশটিতে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে ৭ শতাংশ করে ডিম উৎপাদন হয়। ডিম উৎপাদনে শীর্ষ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল, জাপান, রাশিয়া ও তুরস্ক।

বৈশি^ক ভোগ : বর্তমানে ডিমের ভোগ উন্নত দেশগুলোয় তুলনামূলক বেশি হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে বিশে^ মাথাপিছু ডিম ভক্ষণে সবচেয়ে এগিয়ে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডস। দেশটির নাগরিকরা বছরে মাথাপিছু প্রায় ৩৩ কেজি বা ৫০০টি ডিম ভক্ষণ করে থাকেন। এরপরের অবস্থানে আছে প্রাচ্যের দেশ জাপান। দেশটির নাগরিকরা বছরে গড়ে প্রায় ২১ কেজি বা ৩২০টি ডিম ভক্ষণ করেন। এর পরের অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক ডিম ভক্ষণের পরিমাণ ১৬ কেজি বা ২৭০ পিস। এ ছাড়া ভারতের নাগরিকরা বছরে গড়ে মাথাপিছু সাড়ে ৬ কেজি বা ১১০টি ডিম ভক্ষণ করে থাকেন। আর বাংলাদেশে বার্ষিক গড় মাথাপিছু ডিম ভক্ষণের পরিমাণ সাড়ে ৫ কেজি বা ৯০ পিস। উন্নয়নশীল দেশে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, নগরায়ণ এবং পুষ্টিসচেতনতার কারণে ডিমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব : ২০২৪ সালে বৈশ্বিক ডিম বাজারের আকার ছিল প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩২ সালের মধ্যে ২২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে (বৃদ্ধির হার প্রায় ৫ শতাংশ)। এই শিল্প বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক ও ব্রাজিল ডিম রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে আর জার্মানি ও যুক্তরাজ্য আমদানিতে অগ্রগণ্য।

পুষ্টিগুণ : একটি বড় আকারের ডিমে গড়ে আমিষ থাকে ৬ থেকে ৭ গ্রাম। এ ছাড়া ভিটামিন-বি-১২ থাকে ২৫ শতাংশ, ভিটামিন-ডি-১৫ শতাংশ এবং কোলিন থাকে ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ফোলেট, লৌহ, জিংক, সেলেনিয়ামসহ ১৩টিরও বেশি মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে ডিমে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত হৃদরোগ বা কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং এটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিজ আমিষের চাহিদাও বাড়ছে। এফএওর মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডিমের বৈশ্বিক ভোগ আরও ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রযুক্তি, উন্নতজাতের মুরগি এবং টেকসই খামার ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে ডিম পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখার একটি সহজ সমাধান হিসেবে স্বীকৃত। সাশ্রয়ী, পুষ্টিকর এবং বহুমুখী এই খাদ্য উপাদান ভবিষ্যতেও মানবজীবনের অপরিহার্য সঙ্গী হয়ে থাকবে। 

সূত্র : ইন্টারনেট ও এফএও

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত