বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার দাপট, এবং নির্বাচন প্রহসনের এক ভয়াবহ দুষ্টুচক্রে আবদ্ধ ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে একটি নতুন, ন্যায়ের বাংলাদেশ গঠন। এই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে ‘জুলাই সনদের’ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। এই সনদে আমরা যে কাঠামোগত ও রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছি, তা দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের সোপান। তাই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি অপরিহার্য।
পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শুক্রবার বাদে জুমা নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ গেটে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ মোবারক হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা. এ কে এম ফজলুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, ডা. আবু নাছের, শফিউল আলম প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, যতদিন পর্যন্ত এই রাষ্ট্র ক্ষমতা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক মাঠ কিছু সুবিধাভোগী দলের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, ততদিন এ দেশে কখনও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হবে না। আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই, যেখানে সব দল সমান সুযোগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ ও জনবিচ্ছিন্ন। তাই আগামী নির্বাচন অবশ্যই ‘পিআর’ পদ্ধতিতে হতে হবে যাতে জনগণের প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন সংসদে ঘটে। এটাই প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা, যেখানে জনমতের অনুপাতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। জুলাই সনদে আমরা এই নির্বাচন পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছি, যা এ দেশের রাজনৈতিক বৈষম্য ও নির্বাচনী জালিয়াতির অবসানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশ শেষে এক গণমিছিল কাজীর দেউড়ি মোড় হয়ে জামালখানে গিয়ে শেষ হয়।
