উত্তর গাজায় ফিরছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:২১ এএম

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি সরকার। গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইংরেজি ভাষার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের
জীবিত ও মৃত পল জিম্মিকে মুক্তির
বিষয়ে চুক্তির কাঠামো অনুমোদন করেছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পথ খুলল। আর এর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ও সৈন্য প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই, গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরতে। শুরু করেছেন বাজ্জাত ফিলিস্তিনিরা। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১ ২টা থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করে আইডিএফ। গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তির নিশ্চয়তা পেয়েছে বলে জানিয়েছে উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত এ পরিকল্পনাকে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি' বলে অভিহিত করে নেতানিয়াহু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা দুজনই প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহঘর সঙ্গে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধবিরতি এবং হামাসের কাছে থাকা জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি এ চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে ইসরায়েলও শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণার পর ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। দুই বছর ধরে চলা এ যুদ্ধের অবসানে একে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান খলিল আল-হাইয়া জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে তিনি যুদ্ধের অবসানের নিশ্চয়তা পেয়েছেন। এদিকে গত কয়েক সপ্তাহের ভারী বোমাবর্ষণে গাজা উত্তরাঞ্চল এমন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও, আইডিএফ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সেখানে ফিরতে শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, সেনারা গাজার কিছু এলাকা থেকে সরে এসে
নতুন নির্ধারিত সীমানা বরাবর অবস্থান নেওয়া শুরু করেছে। ইসরায়েলি
গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় উল্লিখিত এবং হামাস ও ইসরায়েলের সম্মত হওয়া এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রাফাহ ও খান ইউনিস (দক্ষিণ) ও গাজার উত্তরের এলাকা থেকে পূর্বদিকে প্রত্যাহার করে ইসরায়েলের সীমান্তের দিকে সরে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি 'পর্যবেক্ষণ' করার জন্য কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ টাস্কফোর্সের অংশ হিসেবে ইসরায়েলে ২০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ওই ২০০ সেনা এরই মধ্যে ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তি অনুমোদন করার পর গাজার উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যেতে শুরু করেছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কিছু ব্রিগেড ও ডিভিশনকে গাজার কেন্দ্রীয় অংশ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নুসেইরাত আশ্রয় শিবির থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো উত্তর দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে। তবে তারা এখনো নেতজারিম করিডরে প্রবেশ করতে পারেনি, যেখানে আগে ইসরায়েলি সেনারা অবরোধ করে রেখেছিল। পরিবারগুলো অপেক্ষায় আছে, ওই অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের শেষ ট্যাংকটি চলে যাওয়ার পর তারা সেখানে প্রবেশ করতে চায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত