শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের নামে মামলা করবে দুদক

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৮ এএম

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের কার্যাদেশ প্রদানে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ ক্ষতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলায় যাদের আসামি করা হচ্ছে, তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী (অর্থ ও পরিকল্পনা) এমএ মান্নান, সাবেক সচিব এমএএন ছিদ্দিক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলীল, সাবেক উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল ও ইবনে আলম হাসান, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আফতাব হোসেন খান ও মো. আব্দুস সালাম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস লিমিটেডের) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী এবং পরিচালক ইকরাম ইকবাল।

দুদকের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডকে (সিএনএস লিমিটেড) মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়কারী হিসেবে নিয়োগ দিতে গিয়ে আগের টেন্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল করা হয়। পরে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। অন্যান্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা না করেই শুধু সিএনএস লিমিটেডের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য টোল আদায়ের চুক্তি করা হয়। এতে টাকার অঙ্কে নয়, মোট আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে (ভ্যাট ও আয়কর ছাড়া) সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়। এই চুক্তির আওতায় সিএনএস লিমিটেড ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একই সেতুতে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টোল আদায়ের জন্য এমবিইএল এটিটি যৌথভাবে মাত্র ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় (ভ্যাট ও আয়করসহ) চুক্তি দেওয়া হয়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া সিএনএস লিমিটেড দুটো নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও অবকাঠামো ব্যয় বাবদ আরও ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা দাবি করে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, সিএনএস লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার ফলে সরকারের ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে এ অনিয়ম করেন। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, উল্লিখিত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা, এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ১২৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত